গণধর্ষণের পর নৃশংস অত্যাচার করে কিশোরীকে খুন | daily-sun.com

গণধর্ষণের পর নৃশংস অত্যাচার করে কিশোরীকে খুন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৬:১৮ টাprinter

গণধর্ষণের পর নৃশংস অত্যাচার করে কিশোরীকে খুন

 ভারতের হরিয়ানার ঝিন্দ জেলা থেকে এক দলিত কিশোরীর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনার তদন্তে উঠে এল ভয়াবহ তথ্য। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, নির্ভয়ার মতোই গণধর্ষণের পর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয় ওই কিশোরীর উপর। তার গোপনাঙ্গে কোনও একটি শক্ত ও ভোঁতা বস্তু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোপনাঙ্গ। এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

 

রোহতকের পিজিআইএমএস-এর ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান এস কে দত্তারবল বলেছেন, ‘এই কিশোরীর দেহে মোট ১৯টি জায়গায় ক্ষতচিহ্ন ছিল। মুখ, মাথা, বুক ও হাতেই বেশি ক্ষত দেখা গিয়েছে। ওর ফুসফুস ফেটে গিয়েছে। কেউ ওর বুকের উপর বসে পড়ার ফলেই এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গোপনাঙ্গেও কিছু ঢুকিয়ে দেওয়ার ফলে মারাত্মক ক্ষত দেখা যায়। মনে হচ্ছে তিন-চারজন মিলে ওর উপর অত্যাচার চালিয়েছে। ওকে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে ময়নাতদন্তে।’

 

পুলিশ সুপার অভিষেক গর্গ বলেছেন, ‘এই কিশোরীকে শেষবার দেখা গিয়েছিল তাদের গ্রামেরই এক ২০ বছর বয়সি তরুণের সঙ্গে। এই ঘটনার পর থেকেই ওই তরুণ নিখোঁজ। কিশোরীর পরিবারের লোকজন অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছিল। তবে ওই তরুণের সঙ্গেই এই ঘটনার যোগ আছে কি না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার তদন্তের জন্য দু’টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।’

 

মৃত কিশোরীর বাবা বলেছেন, ‘আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি অপরাধীদের শাস্তি চাই। ওর জন্য আমি বিচার চাই। প্রশাসন যদি ঠিকমতো কাজ করত, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না।’

 

মৃত কিশোরীর পরিবার তার দেহ নিতে চাইছিল না। তাঁদের দাবি ছিল, সিবিআই-এর হাতে এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দিতে হবে, পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে, নির্ভয়া তহবিল থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে এবং দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স দিতে হবে। হরিয়ানার মন্ত্রী কে কে বেদী উপযুক্ত তদন্ত ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পরেই মৃতদেহ সৎকার করা হয়।

 


Top