খালেদাকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য | daily-sun.com

খালেদাকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৫:৩১ টাprinter

খালেদাকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ এবং বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে ‘অপমানিত’ করার অভিযোগে এবি সিদ্দিকীর দায়ের মানহানি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল হওয়া সংক্রান্ত  প্রতিবেদন আদালতে আসেনি। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ রবিবার (১৪ জানুয়ারি) পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও গুলশান থানা কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী পরবর্তী দিন নির্ধারণ  করেন।


মামলায় সমন জারি করার পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বছরের ১২ অক্টোবর খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে ওই সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানাকে নির্দেশ দেন আদালত।


এর আগে চলতি ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত। তবে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।


প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

 


ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আল-বদর, আল-শামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান।


পরে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু, তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি ও গাড়িতে ব্যবহার করেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব প্রদান করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূ-লুণ্ঠিত করেছেন।


এ মামলার অপর আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে হুমকি ও অবরুদ্ধ করে রাখেন। তবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।


মামলায় বলা হয়, '১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লবের মাধ্যমে সামরিক সরকারের দায়িত্ব দখল করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসলে তাকে হুমকি দিয়ে তার বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। ' 


এতে বলা হয়, 'এ ছাড়া খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর রাজাকারদের হাতে মন্ত্রিত্ব তুলে দেন। যার মাধ্যমে স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটিয়েছেন। ' 

 


Top