২০১৭-তে সড়কে নিহত ৭৩৯৭ জন, চিরতরে পঙ্গু ১৭২২ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি | daily-sun.com

২০১৭-তে সড়কে নিহত ৭৩৯৭ জন, চিরতরে পঙ্গু ১৭২২ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৫:২৬ টাprinter

২০১৭-তে সড়কে নিহত ৭৩৯৭  জন, চিরতরে পঙ্গু ১৭২২ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

 

সারাদেশে ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৭ জন। এ ছাড়া পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন ১ হাজার ৭২২ জন। আর আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ১৯৩ জন। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক। 


জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটি আরও জানায়, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং আহত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।


সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছোট-বড় ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছে ১৬ হাজার ১৯৩ জন। যার মধ্যে  হাত-পা বা অন্য অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে ১ হাজার ৭২২ জন। বিগত বছরে দুর্ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ।


২০১৭ সালে এক হাজার ২৪৯টি বাস, এক হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৭৬টি হিউম্যান হলার, ২৬২টি কার-জিপ-মাইক্রোবাস। এক হাজার ৭৪টি অটোরিকশা, এক হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, ৩২২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮২৪টি নছিমন করিমন দুর্ঘটনায় পড়ে।


সংগঠিত দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে আহত ও নিহত হন।


২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪ হাজার ৩১২টি। যার মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৫ জন এবং ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছেন। 


পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং আহত ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।


যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৫০টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ১০৩ জন আহত ও ৫২০ জন নিহত হয়।


ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৬৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৬০৬ জন আহত আর নিহত ৫৩৫ জন। মার্চ মাসে ৪৭২টি দুর্ঘটনায় এক হাজার ৪৮ জন আহত, ৫০৬ জন নিহত হয়।  এপ্রিল মাসে ৩৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১০ জন আহত ও ৪১৮ জন নিহত হয়।  মে মাসে ৪৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৪৫ জন আহত ও ৫৩৯ জন নিহত হয়।


জুন মাসে ৪০২টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫৪ জন আহত ও ৫০৩ জন নিহত হয়।  জুলাই মাসে ৩৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৪৩২ জন আহত ও ৪২৫ জন নিহত হয়।

 
আগস্ট মাসে ৩৪৪টি দুর্ঘটনায় ৩৯১ জন নিহত ও ৬৯৮ আহত হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬৬ জন নিহত ও এক হাজার ৩৭১ আহত এবং অক্টোবর মাসে ৪২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৫ জন নিহত ও ৭৮৬ আহত হয়।


নভেম্বর মাসে ৪০৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত ও ৬৭০ আহত এবং ডিসেম্বর মাসে ৪৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০০ জন নিহত ও ১১৪৮ আহত হয়।


বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ: সংবাদ সম্মেলনে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে তা হচ্ছে- বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপদজ্জনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন। যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা। চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার। মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো। মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডে যানবাহন উঠে পরা। রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝ পথে পথচারীদের যাতায়াত।


সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সুপারিশ: ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধিবিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় জনসাধারণের জন্য ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র সমূহে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা, ফুটপাত বেদখল মুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা। জেব্রাক্রসিং অংকন করা, চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাত্রীবান্ধব সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন, গাড়ির ফিটনেস ও চালদের লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন করা, জাতীয় মহাসড়কে স্বল্পগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যারা ছিন্নমূল ও দারিদ্রের কাতারে নেমে যাচ্ছে তাদের ভরণ-পোষণের দায়-দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশে।


এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ফুয়ারার সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবির হিরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

 


Top