তুরাগ তীরে বিশ্বইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায় | daily-sun.com

তুরাগ তীরে বিশ্বইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০০ টাprinter

তুরাগ তীরে বিশ্বইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়

 

বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে পবিত্র জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় টঙ্গীর তুরাগ তীরের ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তম এ জামাত হয়।

জুমার নামাজে ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ জোবায়ের।


জুমার নামাজে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ হাসান রাসেল।


এর আগে জুমার জামাতে অংশ নিতে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সকাল থেকেই গাজীপুর ও এর আশপাশের জেলা থেকে ইজতেমা মাঠে উপস্থিত হন। দুপুর ১২টার আগেই ইজতেমা মাঠ ছাপিয়ে এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন মুসল্লিরা।

 
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত মুসল্লিরা জায়নামাজ, পাটি, কাগজ ও পলিথিন বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যাত্রীদেরও ইজতেমা ময়দানের প্রবেশ মুখে ওজুখানা থেকে ওজু করে নামাজে শরিক হতে দেখা যায়।


এর আগে বাদ ফজর জর্ডানের মাওলানা শেখ ওমর খতিবের বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মূল কাজ শুরু হয়। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মুরব্বি আব্দুল মতিন। প্রথম পর্বে দেশের ১৪ জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্থান, ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।


ইজতেমার প্রথম দিনেই অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার বিদেশি মুসল্লি। গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, রেজিস্ট্রেশন সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত ৭৯টি দেশের ৩ হাজার ৯১৯ জন বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা মাঠে যোগ দিয়েছেন।   প্রত্যাশ করা হচ্ছে, এবারের ইজতেমায় ১৩৫টি দেশের দশ হাজার মুসল্লি অংশ নিবেন।


এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস।


এবারের ইজতেমা ময়দানের রয়েছে ১৭টি প্রবেশ পথ। ইজতেমা ময়দানের চারদিকে ১৫টি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। মাঠ জুড়ে রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।


এবারও দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বইজতেমা। প্রথম দফা ১২জানুয়ারি থেকে ১৪জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফা ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১জানুয়ারি চলবে। দুই দফারই শেষদিন অনুষ্ঠিত হবে তাবলীগ জামাতের প্রধান আকর্ষন আখেরী মোনাজাত। তবে এবার আখেরি মোনাজাতকে পরিচালনা করবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের মাওলানা সাদ বিশ্বইজতেমায় বয়ান ছাড়াও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান ও মোনাজাত পরিচালনা কে করবেন তা এখনও জানা যায়নি।


প্রথম দফায় ১৬ জেলার মুসুল্লীরা ২৮ খিত্তায়: বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রতিজেলার মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারিত থাকে। এ স্থানকে খিত্তা বলে।


প্রথম দফায় অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মধ্যে হল- ঢাকা (১-৮নং, ১৬নং, ১৮নং, ২০নং ও ২১নং খিত্তা), নারায়ণগঞ্জ (১২নং ও ১৯নং খিত্তা), মাদারীপুর (১৫নং খিত্তা), গাইবান্ধা (১৩নং খিত্তা), শেরপুর (১১নং খিত্তা), লক্ষীপুর (২২-২৩নং খিত্তা), ভোলা (২৫-২৬নং খিত্তা), ঝালকাঠি (২৪নং খিত্তা), পটুয়াখালী (২৮নং খিত্তা) , নড়াইল (১৭নং খিত্তা), মাগুরা (২৭নং খিত্তা), পঞ্চগড় (৯নং খিত্তা), নীলফামারী (১০নং খিত্তা) ও নাটোর (১৪নং খিত্তা)।


এদিকে ইজতেমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ১৪ জানুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। ৪ দিন বিরতির পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

 


Top