মাওলানা সাদ ইস্যুতে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | daily-sun.com

মাওলানা সাদ ইস্যুতে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৭:১৯ টাprinter

মাওলানা সাদ ইস্যুতে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে নিয়ে বাংলাদেশের তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিকেলে শুরু হওয়া এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।


বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বাংলাদেশের তাবলিগের শুরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফ ও কওমী মাদরাসা বোর্ডের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন বৈঠকে।


ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বৈঠকে অংশ নিলেও পৌঁনে চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে যান।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে নিজেদের বৈঠক শেষে মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে সূর্য ডোবার আগেই দিল্লি ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সংগঠনটি।  


যদিও সকালে ডিএমপি জানিয়েছে বিশ্ব ইজতেমা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশায় মাওলানা সাদ ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না। তারপরও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক পুলিশ। কাকরাইল মসজিদে এখনও পুলিশি নিরাপত্তা বহাল আছে।


অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় যাবেন কি যাবেন না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা।

সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। আমরা লক্ষ্য রাখছি যাতে বিশ্ব ইজতেমায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। ’


এর আগে, ঢাকায় এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি। তিনি যাতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে না পারেন সেজন্য তাবলিগ জামাতের একটি অংশ বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিমানবন্দরের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং বিমানবন্দর থেকে সিভিল এভিয়েশন হেড কোয়াটার্স গেট দিয়ে বের হওয়া সকল যানবাহনে তারা তল্লাশি চালান। এমনকি তল্লাশি চালানো হয় অ্যাম্বুলেন্সও। পরে কঠোর নিরাপত্তায় সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে বিকেলে মাওলানা সাদকে কাকরাইল মসজিদের তাবলিগ জামাতের মারকাজে (অফিস) নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।


এদিন, বিক্ষোভের আয়োজক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছি। তারপরও যদি দাবি না মানা হয়, তাহলে আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে।


এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।


উল্লেখ্য, বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অন্যতম আলেমগণ মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় না আসার আহ্বান জানায়। শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় অনুষ্ঠিত তাবলিগের শুরা সদস্য ও আলেমদের বৈঠকে এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদের না আসার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে বৈঠকের ফয়সাল নিজামুদ্দিনের দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের আসার সিদ্ধান্ত দেন।


এদিকে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতকে লেখা এক চিঠিতে মালয়েশিয়া তাবলিগের শূরা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গীতে তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদকে ইজতেমার আমির ও ফয়সালের (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী) পদ থেকে সরানো হলে এ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ওই চিঠিতে সতর্ক করা হয়।

 


Top