অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ ৬৬ ইবতেদায়ি শিক্ষক | daily-sun.com

অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ ৬৬ ইবতেদায়ি শিক্ষক

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:৫৫ টাprinter

অনশনের তৃতীয় দিনে অসুস্থ ৬৬ ইবতেদায়ি শিক্ষক

 

শৈত্যপ্রবাহ আর কন কনে শীতের মধ্যে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে অনশনের তৃতীয় দিনে এখন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন শিক্ষক। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মখলেছুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, তৃতীয় দিনের মতো আমরা অনশন চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৬ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরো অনেকেই অসুস্থ। তবে আমাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অনশন কর্মসূচি চলবে।


কাজী মখলেছুর রহমান আরো বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের কোনো পক্ষের কাছ থেকে কোনো ধরনের আশ্বাস পাইনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কাউকে পাঠিয়ে আমাদের খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমরা কী কষ্টে আছি। 


এর আগে কন কনে শীতে টানা আট দিন অবস্থান ধর্মঘটের পর গত মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা।


বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কোনো কথায় আর আশ্বস্ত না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঘোষণা শুনতে চাই। অন্যথায় আমরা অনশন চালিয়ে যাব।


তিনি আরও বলেন, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন প্রতি মাসে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। অথচ, বঞ্চিত রয়ে গেল ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। যে মাদ্রসাগুলোও প্রাথমিকের মতো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে করে হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


মাদ্রাসা শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিস্থলে দেখা গেছে, প্রেসক্লাবের মূল গেটের পশ্চিম পাশের ফুটপাথে অবস্থান নিয়েছেন শতাধিক আন্দোলনকারী। 'বেতন দাও নইলে ভাত দে, মোগো বেতন নইলে বিষ, বেতন বঞ্চিত ৩২ বছর, হামরা খুব কষ্টে আছি, চাকরি আছে বেতন নাই, এমন কোনো দেশ নাই’ এ ধরনের নানা স্লোগানের প্ল্যাকার্ড হাতে দাবি পূরণের পক্ষে গত ১ জানুয়ারি (সোমবার) থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সারাদেশ থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

 
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর প্রায় ৫ হাজারের অধিক নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরকম সাড়া না পেয়ে ৩১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশনে যান। প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে শীতের মধ্যে টানা ১১ দিন অবস্থানের পর গতকাল শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।


এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর বেতন বৈষম্য দূরীকরণ তথা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা টানা তিন দিন আমরণ অনশন পালন করে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে, যদি তাদের দাবি যুক্তিযুক্ত হয়, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরপরের দিনই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

 


Top