চুলা খুড়ে ম্যাচ জ্বালালেই আগুন, লাগেনা কোনো জ্বালানি | daily-sun.com

চুলা খুড়ে ম্যাচ জ্বালালেই আগুন, লাগেনা কোনো জ্বালানি

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:২৫ টাprinter

চুলা খুড়ে ম্যাচ জ্বালালেই আগুন, লাগেনা কোনো জ্বালানি

সিনেমায় গুপি গাইন এবং বাঘা বাইন হাততালি মেরে খাবার নিয়ে আসতেন। আর এখানে দেশলাই কাঠি জ্বালালেই তৈরি হয়ে যাবে খাবার।  

পিকনিকের জন্য সব মজুত। চাল, ডাল সবজি, মাংস, হাঁড়ি কড়াই, খুন্তি। কিন্তু জ্বালানির ব্যবস্থা নেই। পকেটে একটা দেশলাই বাক্স থাকলেই কেল্লাফতে। মুহূর্তে গনগনে আঁচে তৈরি খিচুরি, সবজি, মাংস, চাটনি। ঠিক যেন ভোজবাজি। এ রাজ্যেই রয়েছে এমন এক নদীর চর যেখানে দল বেঁধে পিকনিক করতে গিয়ে কাঠ-কয়লা-এলপিজি সিলিন্ডারের প্রয়োজন নেই। 

 

নদীর বালিতে একটু গর্ত খুঁড়ে দেশলাই কাঠি দিতেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠবে আগুন। সারাদিন ধরে হাজার লোকের রান্না করলেও অনন্ত আগুন জ্বলতেই থাকবেই। ঠিক যেন মধুসূদন দাদার দইয়ের ভাঁড়।

 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  হীরাপুরের ধেনুয়াগ্রামের কাছে দামোদর নদীর তীরে যাঁরা পিকনিক করতে আসেন,  তাঁরা জানেন এখানে জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হয় না। টাকা খসিয়ে কাঠকয়লাও কিনতে হয় না। মাটির তলার অফুরন্ত মিথেন গ্যাসেই এখানে রান্নাবান্না করেন পিকনিক করতে আসা জনতা।

 

এই এলাকায় নদীর বালি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে মিথেন, পাথরের খাঁজে মিথেন আবার জলের নীচেও রয়েছে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস। দিনের আলোয় ঠাহর করা না গেলেও রাতে দেখা যায় আদগুন জ্বলছে। জলের মধ্যে বুদবুদ কেটেও বেরিয়ে আসছে মিথেন গ্যাস। এই বিপজ্জনক স্থানই পিকনিক স্পট হিসাবে বেছে নিয়েছেন আসানসোলবাসী। মিথেন গ্যাসের আগুনকে কাজে লাগিয়ে এখানে শীতের মরসুমে চলে চড়ুইভাতির রান্নাবান্না।

 

কয়লাখনি আসানসোলের খনিগর্ভে এমনিতেই বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে ভরপুর। একটি গ্যাস উত্তোলোনকারী সংস্থা এই এলাকাতেই স্টেশন তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে কোলবেড মিথেন গ্যাস। তাতেই চলে আসানসোলের বাস, ট্যাক্সি, অটোর মতো যানবাহন।

 

দামোদরের চরে বেশকিছু জায়গা অতিরিক্ত গ্যাসপ্রবণ হওয়ায় মাটি ফুঁড়ে যেখানে সেখানে মিথেন গ্যাস বেরিয়ে আসে। মিথেন যেহেতু স্বয়ংক্রীয় দাহ্য গ্যাস তাই বাতাসে অক্সিজেনের সংস্পর্শে নিজেই আগুন ধরে যায়। দামোদরের বালি চরে যেখানেই ভূমির ফাটল সেখানেই আগুন জ্বলে ওঠে। তবে খনি বিশেষজ্ঞদের মতে ধেনুয়ার ওই স্পটে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করা উচিত নয়।

 

মিথেন গ্যাসে পিকনিক করতে গিয়ে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রদীপ মাজি বলেন, বাইরের কেউ এখানে পিকনিক করেন না। যারা এলাকাটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাঁরাই এখানে পিকনিক করতে আসেন। তাই সঙ্গে জ্বালানি কিছু নিয়ে আসেন না। দু-তিনটে পাথর জোগার করে উনুন বানিয়ে নিলেই হল। দেশলাই দিতেই গনগনে আঁচ রেডি। তারপর কড়াই হান্ডা চাপিয়ে নিলেই হল। তবে বিস্তীর্ণ বালুভূমিতে এলাকা চিনে নিতে হয় নইলে রবারের চটি বা সিন্থেটিকের কাপড় কখন যে গলে যাবে তা বোঝা যায় না। পিকনিক পার্টিদের দাবি বড় কোনও দুর্ঘটনা আজ পর্যন্ত ঘটেনি।

 


Top