আমরণ অনশনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা | daily-sun.com

আমরণ অনশনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ১১:৩৪ টাprinter

আমরণ অনশনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা

 

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আবশেষে আমরন অনশনে বসলেন ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কনকনে শীতের মধ্যে টানা ৮দিন অবস্থান ধর্মঘটের পর মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা।

 

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মখলেছুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে গত ৮ দিন ধরে এখানে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছি। এসময় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। কিন্তু আমাদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তাই এখন থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। জাতীয়করণের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।

 
তিনি আরও বলেন, আজ যদি কোনো শিক্ষক অনশন করে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে জাতির কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে। আমরা আপনাদের সমালোচনা করতে আসিনি। এই শীতে শিক্ষকরা আর কত রাস্তায় বসে থাকবে।

আমরাও আমাদের স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চাই।

 


বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কোনো কথায় আর আস্বস্থ না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঘোষণা শুনতে চাই। অন্যথায় আমরা অনশন চালিয়ে যাবো।


তিনি আরও বলেন, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখন প্রতি মাসে ২২ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। অথচ, বঞ্চিত রয়ে গেল ১ হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। যে মাদ্রসাগুলোও প্রাথমিকের মতো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে করে হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


মাদ্রাসা শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিস্থলে দেখা গেছে, প্রেসক্লাবের মূল গেটের পশ্চিম পাশের ফুটপাথে অবস্থান নিয়েছেন শতাধিক আন্দোলনকারী। 'বেতন দাও নইলে ভাত দে, মোগো বেতন নইলে বিষ, বেতন বঞ্চিত ৩২ বছর, হামরা খুব কষ্টে আছি, চাকরি আছে বেতন নাই, এমন কোনো দেশ নাই’ এ ধরনের নানা স্লোগানের প্ল্যাকার্ড হাতে দাবি পূরণের পক্ষে গত ১ জানুয়ারি (সোমবার) থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন সারাদেশ থেকে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

 
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর প্রায় ৫ হাজারের অধিক নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরকম সাড়া না পেয়ে ৩১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশনে যান। প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে শীতের মধ্যে টানা ১১ দিন অবস্থানের পর গতকাল শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।


এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর বেতন বৈষম্য দূরীকরণ তথা জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা টানা তিন দিন আমরণ অনশন পালন করে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধান করা হবে, যদি তাদের দাবি যুক্তিযুক্ত হয়, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এরপরের দিনই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

 


Top