দুদকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু | daily-sun.com

দুদকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৪:৩৯ টাprinter

দুদকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেসিক ব্যাংকের বাচ্চু

 

ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে তৃতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে দুদুক কার্যালয়ে হাজির হন তিনি।

 


নেটিশ অনুযায়ী, সকাল ৯টায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও পাঁচ ঘন্টা দেরিতে দুদকে এসে পৌঁছান তিনি। এসময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি সাড়া দেননি।

 
এর আগে একই ঘটনায় গত ৪ ও ৬ ডিসেম্বর দুই দফায় দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে ৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে সব অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়েছে উত্তর দিয়েছি।’ 


ওই দিন দুই পরিচালকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের তদন্ত টিম তাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিন ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা জানেন বলে স্বীকার করেন বাচ্চু। তবে এর জন্য তিনি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলাম, তিন ডিএমডি ও তিন শাখা ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তিনটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন।
 

দুদকের নবনির্মিত জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছিলেন- ‘আমাকে পুনরায় বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হলে আমি ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়া টাকা পুনরুদ্ধার করে দেব।’
 

তার এমন দাবিকে এক ধরনের ‘মশকারা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
 

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বাচ্চু বলেন, ‘আমার অনেক টাকার সম্পদ আছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা। তাই বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করার প্রশ্নই ওঠে না।’ 
 

বাচ্চু বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির ঘটনা আমি জানি। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে বুঝতে পারি যে, বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। তখন আর কিছুই করার ছিল না।’ 
 

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের ঘটনায় বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি (বাচ্চু) সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি, তাই তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

 
বাচ্চুকে মামলার আসামি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন কে আসামি হবেন, কে হবেন না।’


এদিকে গত ২৭ নভেম্বর বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির এ ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম, সুবাশিষ বোস ও  মো. শাখায়াত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 


এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, সিজিএ কার্যালয় ও খোদ বেসিক ব্যাংকের নানা প্রতিবেদনে এ লুটপাটের  সঙ্গে বাচ্চুসহ অনেকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দুদককে। মূলত এরপরই দুদক থেকে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের  বিষয়ে এ জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুকে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির  অভিযোগের তীর তার দিকে  উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটি থেকে চাপের মুখে বাচ্চু পদত্যাগ করেন।
 

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করে দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে। মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখা থেকে ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখা থেকে প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখা থেকে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়।

 
ঋণ জালিয়াতির এ মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রয়েছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণ গ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। 


এ ছাড়া সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, মো. সেলিম ৮টি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করা হয়। তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুরসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। 

 


Top