‘সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে নাটক করেছে সরকার’ | daily-sun.com

‘সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে নাটক করেছে সরকার’

ডেইলি সান অনলাইন     ৪ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৩০ টাprinter

‘সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে নাটক করেছে সরকার’

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি’কে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে সরকার নাটক করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী। তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ করা রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার।

কিন্তু সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে নাটক করেছে, সেই নাটক আসলে গণতন্ত্রের সাথে, জনগণের সাথে মশকরা।


বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল ক‌বির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি আশা করেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না হোক রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করার অনুমতি পাবে বিএনপি।


তিনি বলেন, সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঐ স্থানে একটি নাম না জানা সংগঠনকে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়ে যে নাটক করেছে সেই নাটকটি আসলে গণতন্ত্রের সাথে, জনগণের সাথে মশকরা করার শামিল। তবুও আমরা আশা করছি সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেবে।


রিজভী বলেন, সভা-সমাবেশ করা রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার । ৫ জানুয়া‌রি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপল‌ক্ষে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও ইতোমধ্যে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমি অবিলম্বে বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অনুমতি দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবারও আহ্বান জানচ্ছি।


তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনদের আমলে বিরোধী দলগুলোকে বারবার কর্মসূচি করতে না দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

আর এ কারণে রাষ্ট্র-সমাজ ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।


সমাবেশের অনুমতি দেয়া সরকারের বিষয় নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের হুকুম ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক পা ফেলতে পারে না। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টার যেকোন সময় যেকোন স্থানে ক্ষমতাসীনদের সভা সমাবেশ করতে তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অনুমতি লাগে না। তাহলে আপনার কথায় এটি পরিস্কার যে, সরকারবিরোধী দলগুলোকে নির্মমতার দ্বারা অবরুদ্ধ করে রাখতেই আপনাদের হুকুমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করেন।


তিনি বলেন, বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল এবং নানা মত ও বিশ্বাসের মানুষরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে ‘জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ অবলম্বন করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার জন্যই দলমত নির্বিশেষে বিএনপি’র ডাকা আগামীকালের ঢাকায় সমাবেশ এবং সারাদেশে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল সফল করতে হবে।


শেখ হাসিনার অধীনে নয়, আসন্ন নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনার নেত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ বহাল থাকলে সেই নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হবে না। সেটি হবে নির্বাচনের নামে ভোটকেন্দ্রে ভোটারবিহীন নির্বাচন, যা শুধুমাত্র আপনাদের নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা।


তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হবে। জনগণকে বাইরে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন হবে না। আর আপনারা যেভাবে নির্বাচন করতে চান, সেই নির্বাচন হবে উঞ্ছবৃত্তি-চৌর্যবৃত্তির নির্বাচন।


পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে কিছু জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এখনো আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। অনুমতি না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে যথাসময়ে অবহিত করা হবে।


সমাবেশে খালেদার উপস্থিতি অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। সমাবেশের অনুমতি পেলে দুপুর ২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

 


Top