ছিনতাইকারীর ঘর ভর্তি ছিনতাইয়ের মালামাল | daily-sun.com

ছিনতাইকারীর ঘর ভর্তি ছিনতাইয়ের মালামাল

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৬:২১ টাprinter

  ছিনতাইকারীর ঘর ভর্তি ছিনতাইয়ের মালামাল

পথ চলতি এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় পথচারীদের সহযোগিতায় মোটরসাইকেলসহ তাকে আটক করা হয়। এরপর তার বাসায় অভিযানে যায় পুলিশ।

সেখানে ঢুকে তো পুলিশ কর্মকর্তাদের চক্ষুচড়ক গাছ, এ যে রীতিমত ছিনতাই পণ্যের গুদাম। স্বর্ণালঙ্কার, ভ্যানিটি ব্যাগ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট আর নগদ টাকাসহ ৪৬ ধরনের চোরাই মালামাল!

 

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর এলাকার ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা ফয়সাল রহমানের বাসা থেকে এই মালামাল জব্দ করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। পরে কাফরুল থানা পরিদর্শকের (অপারেশন) কক্ষে এতো মালামাল দেখে চোখ কপালে ওঠে সংবাদকর্মীদেরও। সাজানো এতোসব পণ্য দেখলে তো যে কারোরই মনে হবে, এ বুঝি পসরা সাজিয়ে বসেছে কোনো দোকান।

 

কাফরুল থানা পুলিশ বলছে, আটক ফয়সাল মিরপুর এলাকাভিত্তিক ছিনতাই চক্র ‘টানা পার্টি’র প্রধান। এ চক্রের সদস্যরা রাজধানীর রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরে, আর সুযোগ পেলেই ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল বা অন্যান্য জিনিসপত্র ছো মেরে পালায়। ফয়সালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার তথ্য ধরে আরও কয়েকজনকে পাকড়াও করতে অভিযান চলছে।

 

কাফরুল থানায় আটক ‘টানা পার্টি’র প্রধান ফয়সাল জানান, তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে। ঢাকায় এসে তিনি মিরপুরে একটি বায়িং হাউজে কাজ শুরু করেন।

ওই চাকরি চলে যাওয়ার পর ছিনতাইয়ে নামেন ফয়সাল।  

 

এক বছর ধরে মিরপুরে ছিনতাই করে আসা ফয়সাল জানান, তাদের চক্র মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৪ নম্বর ডেন্টাল কলেজ পর্যন্ত রাস্তায় বেশি সক্রিয় ছিল।  

কেন এতো জিনিসপত্র বাসায় রেখেছেন- জানতে চাইলে ফয়সাল বলেন, ইচ্ছে ছিল কিছু জিনিসপত্র বিদেশে বিক্রি করবো, কিছু আবার নিজের স্ত্রীর জন্য রেখেছিলাম। এসবের মধ্যে কয়েকটি ভ্যানিটি ব্যাগ স্ত্রীর জন্য রেখেছি।

 

এ বিষয়ে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহম্মেদ বলেন, ছিনতাইকারীর বাসা থেকে এতো মালপত্র ও অন্য আলামত পাওয়ার বিষয়টি নজিরবিহীন।  

এ চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে একাধিক টিম কাজ করছে বলেও জানান ডিসি মাসুদ।

ফয়সালের মিরপুরের মিতালী হাউজিংয়ের ১৬ নম্বর ভাড়া বাসায় কয়েকটি বড় ব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিনতাইয়ের মালামালের মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩টি মোবাইল হ্যান্ডসেট, ৬০টি ভ্যানিটি ব্যাগ ও পার্স, বিভিন্ন ব্যক্তির ৮টি জাতীয় পরিচয়পত্র, বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড। পাওয়া গেছে এক ভরি ছয় আনা ওজনের ২টি স্বর্ণের চেইন, ২টি আংটি, ২৪০ জোড়া চাবির রিং, চাকু, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৭৮ জনের পরিচয়পত্র, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৭৮টি সিমকার্ড এবং নগদ ২৪ হাজার ২৮৫ টাকা।

 

 

আলামত অনুযায়ী ফয়সালের নেতৃত্বাধীন চক্রের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক রওশন আরা, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থী

সানজিদা আরেফিন, ইউসেফ বাংলাদেশের শিক্ষার্থী বিজলী বেগম, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার, জিন্স ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মেডিকেল অফিসার শাহিদা সুলতানা, পল্লবীর বাসিন্দা লাকি ইসলাম, যশোরের সাজিয়া সুলতানা, আহমদ দিদার, আসমা আফরোজ, নার্গিস আক্তার, সুমি আক্তার, শামীমা ও মাহমুদুল হক পাটোয়ারী। এদের কারও জাতীয় পরিচয়পত্র, কারও কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে ফয়সালের বাসায়।  

 

কেউ ছিনিয়ে নেওয়া মালামালের ব্যাপারে উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারলে আদালতের মাধ্যমে তা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান কাফরুল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কামরুজ্জামান।

 

 


Top