'ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে' | daily-sun.com

'ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে'

প্রেস রিলিজ     ২ জানুয়ারী, ২০১৮ ২০:৩৯ টাprinter

'ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে'

 

 বিড়ি শিল্প ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো’কে (বিএটিবি) বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমকে বাঙ্গালী।

মঙ্গলবার ( ২ জানুয়ারি)দুপুরে বগুড়ার সাতমাথা মোড়ে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন ও শ্রমিক কর্মচারী বগুড়া অঞ্চল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।

 

এমকে বাঙ্গালী বলেন, বিগত ৫০ বছর ধরে বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য পায়তারা চলছে। বর্তমানে বিড়ি শিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে। অর্থমন্ত্রী ধূমপানকে ধ্বংস করার নামে বিড়িকে ধ্বংস করার পায়তারা করছেন। বিএটিবি বাংলাদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। কিন্তু সেটা নিয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান দেশের শিল্পকে ধ্বংস করে বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দেশীয় শিল্প বিড়িকে ধ্বংস করার পায়তারা চলছে।  

 

তিনি আরও বলেন, সিগারেট তৈরি করতে বিদেশ থেকে তামাক,কাগজ ও মেশিন আমদানি করতে হয়। কিন্তু বিড়ি বাড়াতে বিদেশ থেকে কোনো কিছুই আমদানি করতে হয় না।

সুতরাং বিড়ি শিল্প দেশীয় প্রযক্তি নির্ভর একটি শিল্প। ২৫ বছর আগে শতকরা ৮০ভাগ মানুষ বিড়ি খেত আর ৫ ভাগ মানুষ সিগারেট খেত। সেটা এখন বিপরীত রূপ ধারণ করেছে। এর কারণ সরকার বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়ানোতে বিড়ির দাম বেড়েছে। তাই মানুষ বিড়ি বাদ দিয়ে এখন সিগারেট খাচ্ছে। সরকারকে বলতে চাই, দেশীয় প্রযক্তি নির্ভর শিল্পকে ধ্বংস করা যাবে না। যতোদিন দেশে ধূমপান থাকবে ততোদিন দেশে বিড়ি থাকবে।

 

 

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন,বাংলাদেশে ডাকাত ঢুকেছে। বাংলার অর্থনীতিকে ধ্বংসকে করছে। সেই ডাকাত বিএটিবি। বিএটিবি ২ হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে একটি পদ্মা সেতু করা যেত। কতিপয় রাজস্ব কর্মকর্তার দ্বারা এটা সম্ভব হয়েছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছে,কোনো ব্যবস্থায় নেয়নি। বরং তারা সরকারের জামায় আদরে রয়েছে। এভাবে বিড়ির ওপর বৈষম্য তৈরি করে সিগারেটকে রক্ষা করা যাবে না। বিড়ি শ্রমিকরা থাকতে বাংলার মাটিতে সেই সুযোগ বিএটিবি পাবে না।

 

 

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ জনপদের মানুষ বিড়ি খাই। এজন্য বিএটিবি গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। প্রতি হাজার বিড়িতে বর্তমানে সরকারকে ২৫২ টাকা ৮০ পয়সা ট্যাক্স দিতে হবে। এটা কখনো হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত সরকারবে বদলাতে হবে।   নয়তো সারা দেশের বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে সচিবালয়ের সামনে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। আমরা চাই সরকার বিড়ির ওপর যে বৈষম্য রয়েছে সেটা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।   

 

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের  সাংগঠনিক সম্পাদক হেরিক হোসেন,শামীম ইসলাম, সংগঠনের বগুড়া জেলার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

 


Top