কয়েকটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে শুধু মেয়েদের | daily-sun.com

কয়েকটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে শুধু মেয়েদের

প্রেস বিজ্ঞপ্তি     ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:০৮ টাprinter

কয়েকটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ আছে শুধু মেয়েদের

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ


আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অবস্থিত ঢাকার মগবাজারে। মেডিক্যাল কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে কার্যক্রম শুরু হয়।

মেডিক্যাল কলেজটি প্রতিষ্ঠা করে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন। শুরুতে শুধু নন-ক্লিনিক সার্জারি (এনাটমিক, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি) পড়ানো হতো। ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে আসনসংখ্যা ৯৫টি। শুরুতে শিক্ষক ছিলেন ৩০ জন। বেসিক সায়েন্স পড়ার জন্য কিছু চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়। এখন শিক্ষক সংখ্যা ১১৭। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল কলেজ প্রতিষ্ঠার দুই বছর আগে। তাই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ছিল আগে থেকেই।


আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের মিডিয়া কনসালট্যান্ট জাহিদুল ইসলাম জানান, এমবিবিএস পরবর্তী পড়াশোনার সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় কলেজটিতে। ফলে শিক্ষার্থীরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স করার সুযোগ পায় কলেজে বসেই।


‘সরকারিতে চান্স না পেলে মন খারাপ নয়’

 

আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন ২০০৯ সালে ঢাকার মগবাজারে প্রতিষ্ঠা করে আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ। পরে আরও তিনটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেÑযশোরে আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিক্যাল কলেজ, কেরাণীগঞ্জে বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ ও খুলনায় আদ্-দ্বীন আকিজ মেডিক্যাল কলেজ। কথা বলেছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আশিকুর রহমান।

 

কখন থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়?


আমাদের মেডিক্যাল কলেজটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে। শুরু হয়েছিল শুধু নন-ক্লিনিক সার্জারি (অ্যানাটমিক, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি) দিয়ে। শুরু থেকেই আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক, নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন।

 

প্রথমে কত জন শিক্ষার্থী ছিল?


সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম চালু করা হয়। বেসরকারি সব মেডিক্যাল কলেজ শুরুতে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কলেজের কার্যক্রম চালু করে। আমরাও ৫০ জন নিয়ে শুরু করেছি। শিক্ষক ছিল ৩০ জন। ১৯৯৭ সালে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়। মেডিক্যাল কলেজ হয় ২০০৯ সালে। সুতরাং হাসপাতালের ডাক্তারসহ অন্যসব ফ্যাসিলিটি আমাদের ছিল। এখন ১১৭ জন শিক্ষক আছেন।

 

কোন ব্যাচে কতজন শিক্ষার্থী?


প্রথম বছর ৪৫ জন, দ্বিতীয় বছর ৬৫ জন, তৃতীয় বছর ৭৫ জন, চতুর্থ বছর ৯০ জন এবং পঞ্চম বছর ৯৫ জন ভর্তি হয়। কলেজ শুরু থেকে এই পর্যন্ত তিনটি ব্যাচের শিক্ষার্থী ডাক্তার হয়ে বের হয়ে গেছে। প্রথমবার ৩০ জন এবং পরে আরো ২০ জন। দ্বিতীয় ব্যাচে সবাই একসঙ্গে পাস করতে পারেননি। তাঁরা দ্বিতীয়বার পাস করে ডাক্তার হয়ে গেছেন। আর তৃতীয় ব্যাচের একটা গ্র“প কাজ করছেন। এই ব্যাচে আমাদের ৩০ জন ডাক্তার ইন্টার্নি করছেন।

 

খরচ কেমন?


আমরা যখন প্রথম শুরু করি, তখন সরকারের কোনো রেগুলেশন ছিল না। প্রথম আমরা পাঁচ বছরের জন্য সব কিছু মিলিয়ে ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছিলাম। পরে সরকারের রেগুলেশন চলে আসে। বর্তমানে অষ্টম ব্যাচ চলছে। ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এখন সব মেডিক্যাল কলেজের একই ফি। ইন্টার্নি ফিসহ এই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

গরিব মেধাবী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য কী সুবিধা আছে?


সরকারি নীতিমালাতেই আছে, ৫ শতাংশ গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী নিতে হবে। আর মুক্তিযোদ্ধার কোটার জন্য ২ শতাংশ বরাদ্দ থাকে। গরিব-মেধাবীদের জন্য আলাদা ফরম বিক্রি করতে হয়। সরকারি মেডিক্যালে যে খরচ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে একই খরচ হয়।

 

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের কোনো বিশেষত্ব?


প্রথমে বলব, এটা একটি মহিলা মেডিক্যাল কলেজ। আর মেডিক্যাল কলেজের একটা গুরুত্বপূর্ণ হলো হাসপাতাল। হাসপাতাল বা প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকলে ডাক্তার হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জন করা যাবে না। আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ খুব কম, এ জন্য প্রচুর রোগী আসে। ব্যবহারিক ক্লাসের সুযোগ এখানে অবারিত। তা ছাড়া আমরা ক্লাসগুলো স্পেশালভাবে নিয়ে থাকি। আমাদের কলেজে ক্লাস চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মেয়েদের কলেজ হিসেবে সিকিউরিটি খুব বেশি। পাঞ্চ কার্ড ছাড়া কেউ ক্লাসে ঢুকতে পারে না।

 

চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অবদান কতটা?


সরকারি মেডিক্যালের তুলনায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অনেক বেশি এবং শিক্ষার্থীও অনেক বেশি। তাই বেসরকারি মেডিক্যাল থেকে ডাক্তারও বের হয় বেশি। তাই বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভ‚মিকা অনেক বেশি।

 

শিক্ষার্থী বাড়ছে, কাজের সুযোগ কতটা বাড়ছে? 


পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা বসে আছেন হাসপাতাল, কলেজে এখনো ডাক্তারদের স্বল্পতা রয়ে গেছে। জনসংখ্যার তুলনায় ডাক্তার অনেক কম। দেশের জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য এখনো অনেক ডাক্তার প্রয়োজন।

 

এফসিপিএসএতে কোনো শিক্ষার্থী আছেন কি?


এমবিবিএস পাস করার পরে এফসিপিএস কোর্সটা করতে হয়। আমাদের কলেজের বর্তমানে দুজন শিক্ষার্থী এফসিপিএস করছেন। তাঁরা পার্ট-১ পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছেন। দ্বিতীয় পার্টের জন্য তাঁরা শিক্ষা নিচ্ছেন।

 

ভর্তীচ্ছুদের জন্য পরামর্শ? 


সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চান্স না পেলে মন খারাপ করার কিছু নেই। সরকারি কলেজে তেমন টাকা লাগে না। আর বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে শুধু বেশি টাকা লাগে। সরকারি-বেসরকারির মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা এখানেই। আর বেসরকারি কলেজে পড়লেই যে খারাপ ডাক্তার হবে, এটা ঠিক নয়


Top