নারীদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ডায়েট | daily-sun.com

নারীদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ডায়েট

ডেইলি সান অনলাইন     ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩২ টাprinter

নারীদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ডায়েট

আমাদের প্রায় সকলেই ছোট থেকে দেখে আসছি যে, আমাদের মায়েরা কখনও বিশ্রাম নেন না বললেই চলে। সকালে চোখ খোলা থেকেই শুরু করে ছুটতে থাকেন তারা।

চলে অবিরাম পরিশ্রম! আচ্ছা মায়েরা এত কাজ কী করে করেন গো! এমন প্রশ্ন নিশ্চয় আপনাদের মনেও আসে? তাই না?

 

গবেষণা বলছে, মেয়েদের মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু অংশ এতটাই কর্মক্ষম হয় যে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে তাঁদের কোনো সমস্যাই হয় না। শুধু তাই নয়, মেয়েদের ব্রেনের কর্টেক্স নামক অংশে অতিরিক্ত পরিমাণে রক্ত পৌঁছে যাওয়ার কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই সঙ্গে একই সময়ে একাধিক কাজ নিপুণভাবে করার ক্ষমতাও বাড়ে।

 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জার্নাল অব অ্যালঝাইমারস ডিজিজ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে মেয়েরা যদি চায় তাহলে তাদের মস্তিষ্কের এই অভিনব ক্ষমতাগুলিকে আরও বাড়াতে পারে। আর তার জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু রদবদল করার প্রয়োজন পড়ে।

 

তাই মায়েরা, আপনারা যদি নিজেদের মস্তিস্কের সক্ষমতাসহ সার্বিক কর্মক্ষমতা আরও বাড়াতে চান, তাহলে দয়া করে এই ডায়েটটা মেনে চলুন। দেখবেন অফিস এবং বাড়িতে আপনাদের কেউ হারাতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে যে যে নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে, সেগুলি হল...

 

১. কফি কম খাবেন
এই পানীয়টিতে উপস্থিত ক্যাফেইন বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে ঘুম কমে যায়। সেই সঙ্গে অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেস বেড়ে যাওয়ার মতো আশঙ্কাও থাকে। তাই ভুলেও দিনে ৪০০ এমজি'র বেশি ক্যাফেইন গ্রহণে চলবে না।

 

২. পর্যাপ্ত  ঘুমাবেন
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন পড়ে। কারণ সারা দিনে যে পরিমাণ শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম একজন মেয়ে করে থাকেন, তা একজন ছেলে জীবনেও করতে পারবেন না। তাই তো চিকিৎসকরা শরীর এবং মস্তিষ্ককে আরাম দিতে কম করে ৮ ঘণ্টা ঘুমনোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন মেয়েদের। প্রসঙ্গত, এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে মস্তিষ্ক ঠিক মতো বিশ্রাম না পেলে ব্রেন পাওয়ার কমতে শুরু করবে। ফলে মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।

 

৩. হজমক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে হবে
ফ্যাট এবং অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। কারণ এমন খাবার খেলে হজম ক্ষমতা কমে যায়। ফলে খাবার হজম হতে যেমন সময় নেয়, তেমনি শরীরের কাজ করার ক্ষমতাও হারিয়ে যেতে শুরু করে। এককথায় আলসেমি বৃদ্ধি পায়। তাই তো এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

 

৪. বাদাম খেতে হবে বেশি করে
লাঞ্চ এবং ডিনারের মাঝে যখনই খিদে পাবে তখনই বাদাম বা ড্রাই ফ্রুটস খাবেন। এই ধরনের খাবার ব্রেন এবং শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে দেহের অন্দরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দূর করে একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 

৫. সাইট্রাস ফল খেতে হবে বেশি করে
কমলা লেবু, মুসাম্বি লেবু এবং পাতি লেবু জাতীয় সাইট্রাস ফল বেশি বেশি করে খেতে হবে। কারণ এমন ধরনের ফলে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন সি-এর ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি ডার্ক চকলেট, ডিম, বিনস, ডাল এবং সবুজ শাকসবজিও প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। প্রতিদিন যদি এই খাবারগুলি খেতে পারেন, তাহেলে আমৃত্যু ব্রেনকে নিয়ে আর ভাবতে হবে না।

 

৬. পানি খেতে হবে পরিমাণ মতো
মানসিক এবং শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে পানির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুনতে যতই আজব লাগুক না কেন, একথার মধ্যে কোনো ভুল নেই যে পানি শরীরকে আর্দ্র রাখার মধ্য দিয়ে দেহ এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা এবং কর্মক্ষম রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যদি তুলসী পাতা, লেবু অথবা নিম পাতা সহযোগে পানি পান করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই!

 

৭. শরীরচর্চা মাস্ট
ব্রেন এবং শরীরের সচলতা বজায় রাখতে ডায়েট যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনি শরীরচর্চার অবদানকেও অস্বীকার করা সম্ভব নয়। কারণ এক্সারসাইজ করার সময় শরীরের অন্দরে যে পরিবর্তন হতে থাকে, তা একই সঙ্গে শরীর এবং মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা বাড়ায়। তাই তো দিনে কম করে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

 
সূত্র : বোল্ড স্কাই

 


Top