শিক্ষামন্ত্রী এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠালেন শিক্ষাঙ্গনে: রিজভী | daily-sun.com

শিক্ষামন্ত্রী এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠালেন শিক্ষাঙ্গনে: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৫৯ টাprinter

শিক্ষামন্ত্রী এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠালেন শিক্ষাঙ্গনে: রিজভী

 

শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খেতে পরামর্শের দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাঙ্গনে এক ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠালেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষামন্ত্রীর যদি এই বক্তব্য হয়, তাহলে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা সততা, নৈতিকতার পাঠ কোথায় নেবে? সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই এসব কথা বলেন।  


এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার প্রমাণ করেছে তারা আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, যোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান নৈরাজ্যকর অমানিষার মধ্যে তার এই বক্তব্য দেশের জন্য আরো ভয়াবহ উদ্বেগ, ভয় ও বিপদের কারণ হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণিত হলো-বর্তমান সরকার আত্মস্বীকৃত চোর ও দুর্নীতিবাজ। দেশে যে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।


প্রসঙ্গত, রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল হইয়া খাবেন, সহনশীল হইয়া মানে এই নয় যে আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অর্থহীন কথা হবে। ’


শিক্ষামন্ত্রীর ওই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার বক্তব্যে এটাই ফুটে উঠছে যে, ছাত্র-ছাত্রীরা তোমরা নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ এবং ন্যায়বোধের বিবেকশাসিত উন্নত মানুষ হওয়ার বদলে তোমরা সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতির পাঠ নিতে শেখো, তাহলেই তোমাদের সাফল্য আসবে।   


তিনি বলেন, তার কথায় মনে হয়-সৃজনশীল, সৌম্য, সুশিক্ষিত মানুষ হওয়ার বদলে ছাত্ররা বখাটে হোক। তার এই বক্তব্যে আরো প্রতীয়মান হয় যে, তিনি চাচ্ছেন-ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জ্ঞানদীপ্ত প্রকৃত শিক্ষার আলোয় আদর্শ জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ না হয়ে বরং দুর্নীতি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলবাজী, দুর্বৃত্তপনা, ইভটিজিং, মাদকসহ লুটপাট করার অর্থবিত্তের কাছে নতি স্বীকার করতে শিখুক।


দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করে রিজভী বলেন, এই শিক্ষামন্ত্রীর আমলে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত, বসন্ত, হেমন্তে প্রশ্নপত্র গোপন থাকতে চায় না।

বন্ধ দুয়ার ভেদ করে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র বাজারে কেনাবেচা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নিজেদের লোকদেরকে এই কেনাবেচার সুযোগও করে দিয়েছেন সুকৌশলে। আওয়ামী সরকারের মন্ত্রীরা এক অভিনব কায়দা উদ্ভাবন করেছেন যেখানে প্রাইমারির প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পিইসি নিয়োগ পরীক্ষা সবখানেই প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস হয় লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে।


রিজভী দাবি করেন, সরকারে মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকেরা দুর্নীতির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। প্রতিটি সেক্টর আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। শুধুমাত্র লুটের কারণেই আর্থিক খাত আজ ধ্বংসের মুখে।

 


Top