রাখাইনে নির্যাতন: সেই জেনারেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা | daily-sun.com

রাখাইনে নির্যাতন: সেই জেনারেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪৫ টাprinter

রাখাইনে নির্যাতন: সেই জেনারেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

 

মিয়ানমারের সেই জেনারেল মং মং সোয়ের বিরুদ্ধে নিয়েধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সোয়ের নেতৃত্বেই দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর চলে বর্বর সেনা অভিযান। যে অভিযানে নয় হাজারের বেশি নির্দোষ রোহিঙ্গা নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। ইতিহাসের কুখ্যাত এই অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে সাড়ে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। খবর-রয়টার্স, বিবিসি, এবিসি।

 
বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে মানবাধিকারের ঘটনা ঘটেছে। আর এর জন্য মং মং সোয়ে দায়ী।


এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, তারা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মিয়ানমারের এক ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করেছেন। পর্যায়ক্রমে তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।


গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েকটি চেকপোস্টে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। নেইপিদোর দাবি অনুযায়ী, এতে ১২ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়।

এ ঘটনার পর দেশটির রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। আর এই অভিযানে অংশ নেয় স্থানীয় বৌদ্ধরা। বিশ্বব্যাপী এ অভিযানের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। কিন্তু এতে নীরব রয়েছে ভারত, চীন ও রাশিয়া।  


জাতিসংঘ এই অভিযানকে জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই অভিযানের ফলে যে শরণার্থী সংকট তৈরি হয়েছে তা বিশ্বের যেকোনো শরণার্থী সংকটের চেয়ে দ্রুততম ও ভয়াবহ।


আর যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের এই অভিযানকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তথাকথিত বেসামরিক সরকারকে সতর্কও করেছে। কিন্তু সাবেক গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী বর্তমান স্টেট কাউন্সিলর তথা কার্যত সরকার প্রধান অং সান সু চি এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নিতে পারেননি। উল্টো তিনিও সেনাবাহিনীর এই অপকর্মকে সমর্থন করেছেন।

যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ‘সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।  


উল্লেখ্য, নানা সমালোচনার মুখে গত মাসে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মংকে রাখাইন রাজ্য তথা পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। কিন্তু এ ব্যাপারে দেশটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।  


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রাখাইন রাজ্যে এখনও সহিংসতা অব্যাহত আছে। এখনও সেখান থেকে রোহিঙ্গারা প্রতিদিন বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। ত্রাণকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের ওই এলাকায় যেতে এখনও বাধা দিচ্ছে মিয়ানমার সরকার। চলতি সপ্তাহেও মানবাধিকারের বিষয় দেখতে যেতে চাইলে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেয় দেশটির সরকার।


মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে রাখাইন রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেজন্য তারা তাদের নাকরিকত্বসহ কোনো মৌলিক অধিকার দিতে নারাজ। যদিও এই দাবির পক্ষে যথাযথ কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি নেইপিদো।  


অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের ইতিহাস বলছে, তারা যুগের পর যুগ ওই রাজ্যে বসবাস করে আসছেন।  


- সূত্র: পরিবর্তন ডট কম

 


Top