নিউইয়র্কে হামলাকারী কে এই ‘বাংলাদেশি’ আকায়েদ উল্লাহ? | daily-sun.com

নিউইয়র্কে হামলাকারী কে এই ‘বাংলাদেশি’ আকায়েদ উল্লাহ?

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪৪ টাprinter

নিউইয়র্কে হামলাকারী কে এই ‘বাংলাদেশি’ আকায়েদ উল্লাহ?

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বোমা হামলাকারী সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহর (২৭) বাড়ি সন্দ্বীপের মুসাপুর ইউনিয়নে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) মুসাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, আকায়েদের বাড়ি মুসাপুর গ্রামে বলে জানতে পেরেছি। তার বাবার নাম সানাউল্লাহ। তবে  তারা ছোটবেলা থেকেই গাজীপুর থাকতেন বলেও জানতে পেরেছি। তাদের গ্রামের বাড়িতে কোন আত্মীয় স্বজন আছে কিনা সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরপর তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।


জানা গেছে, আকায়েদের গ্রামের বাড়ি ভুটান বা বোতান তালুকদারের বাড়ি নামে পরিচিত। ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকলেও খুব পরিচিত নয় সে এলাকায়। চামড়ার ব্যবসায়ী বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠা ঢাকার হাজারিবাগে। সেখান থেকে পারিবারিক কোটায় অভিবাসনের ভিসায় মা-বাবা-ভাই-বোনের সাথে যুক্তরাষ্ট্র যায় ২০১১ সালে।


বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার এবং পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের মধ্যে পাতাল পথে ১১ ডিসেম্বর সোমবার সকালে পাইপ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অসহায় মানুষদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টাকালে নিজের হাতে তৈরী বোমা বিস্ফোরণে আকায়েদ উল্লাহও আহত হয়ে গ্রেফতার হয়েছে। এর ফলে সেখানে প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার ঘটেছে। এমনি অবস্থায় এদিন অপরাহ্নে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ৩ শতাধিক বাংলাদেশি অফিসারের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন’ তথা বাপার উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 


জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বাপার প্রেসিডেন্ট লে. শামসুল হক বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ এবং জাতিগোষ্ঠির মধ্যেই কিছু দুষ্ট লোক রয়েছে। সেজন্যে ওই সম্প্রদায়ের সকলকে ‘দুষ্ট’ হিসেবে মনে করার কোন কারণ থাকতে পারে না। 


বাপার সেক্রোরি হুমায়ূন কবীর আকায়েদ উল্লাহর মত দুষ্ট লোকদের সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে সাথে সাথে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন অথবা সিটির হটলাইনে জানানোর আহ্বান জানান।


কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ প্রতি সংঘবদ্ধভাবে ঘৃণা প্রদর্শন করতে হবে। ওরা বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা মানবতার দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েই থাকবে। 


এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নেইল এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আকায়েদের শরীরে বিস্ফোরক ডিভাইস সংযুক্ত ছিল। বোমাটি আকায়েদের শরীরে বিস্ফোরণ হওয়ায় সে নিজেসহ আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 


সিবিএস নিউজ জানায়, আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে। এদিকে বাংলাদেশি পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আকায়েদ শেষ বারের মতো বাংলাদেশে এসেছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, আটক আকায়েদ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস  দ্বারা অনুপ্রাণিত। কিন্তু তার সঙ্গে আইএস-এর সরাসরি কোনও যোগাযোগ ছিল না। এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ও’নেইল বলেন, ‘আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছে কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।’


তবে আকায়েদ উল্লাহর বরাত দিয়ে পুলিশ নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। খবরে বলা হয়, হাসপাতালে আহত অবস্থায় আকায়েদ বলেছেন, ‘তারা আমার দেশে বোমা বিস্ফোরণ করছে, তাই আমি এখানে হামলা করতে চেয়েছি।’  


নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি এবং লিমোজিন কমিশন জানিয়েছে, ‘আকায়েদ  ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতো। ২০১২ মার্চ থেকে ২০১৫ মার্চ পর্যন্ত তার নামে ট্যাক্সির লাইসেন্স করা ছিল।’


এদিকে, বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শকের এ কে এম শহিদুল হক বলেছেন, আকায়েদের নামে বাংলাদেশে কোনও অপরাধমূল কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। চট্টগ্রামের সন্দীপ থানা পুলিশ বলছে, আকায়েদ ও তার স্বজনদের অতীত রেকর্ডের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। 

 

 

 


Top