নিউ ইয়র্কে হামলাকারী আকায়েদ বোমা তৈরির কারিগর! | daily-sun.com

নিউ ইয়র্কে হামলাকারী আকায়েদ বোমা তৈরির কারিগর!

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:০১ টাprinter

নিউ ইয়র্কে হামলাকারী আকায়েদ বোমা তৈরির কারিগর!

 

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বোমা হামলাকারী সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আকায়েদ উল্লাহ নিজ কর্মস্থলেই বোমা তৈরি করতেন। নিউ ইয়র্কের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কর্মস্থলে বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিলেন আকায়েদ উল্লাহ নিজেই।


এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকায়েদকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তিনি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন ধারণা করা হচ্ছে।


পুলিশ জানায়, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ গত সাত বছর আগে নিউ ইয়র্কে আসেন। তিনি থাকতেন নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন সন্দেহভাজন হামলাকারী আকায়েদ উল্লাহর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে। তবে তার বিষয়ে কারো কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


আকায়েদ কর্মস্থলে বোমাটি তৈরি করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তিনি নিজেও তা স্বীকার করেছেন।


যদিও বাস টার্মিনালে হামলার পর পরই পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তের পর তা নাকচ করা হয়।


নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেমস ও'নিলের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, আকায়েদ উল্লাহ যে বিস্ফোরকটি ব্যবহার করেন, সেটি তার শরীরে লাগানো ছিল। জেমস ও'নিল বলেন, 'বিস্ফোরকে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উচ্চমানের ছিল না। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।


নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিক কম্পানিতে কাজ করছিলেন আকায়েদ। সেখানে তার ভাইও কাজ করতেন।


আকায়েদের প্রতিবেশীরা জানান, আকায়েদ ও তার পরিবার যে বাড়িতে থাকেন, ঠিক তার পাশেই থাকেন অ্যালান বুতরিকো। সিএনএনকে তিনি জানান, আকায়েদ থাকতেন ভূগর্ভস্থ (বেসমেন্ট) কক্ষে। তার বোন থাকতেন দোতলায়। তার ভাইও থাকতেন একই ভবনে। বুতরিকো বলেন, 'গত দুই রাত ধরে আকায়েদের বাড়ি থেকে মারামারি, চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। ' 


বুতরিকো বলেন, 'আমার ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, গত দুই রাত ধরেই এমন চলেছে। তারা বলেছেন যে, কান্না ও গোঙানোর শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে কী হয়েছে বুঝতে পারেননি। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়নি। ' 


অ্যালান আরো জানান, বন্ধুসুলভ ছিলেন না আকায়েদ। তিনি বলেন, 'তিনি একেবারেই বন্ধুসুলভ ছিলেন না। তার পরিবার একেবারেই অর্ন্তমুখী স্বভাবের। কারো সঙ্গেই খুব একটা কথা বলতেন না। তারা কেবল এখানে থাকতেন, ব্যস এটুকুই। ' 


নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, 'একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ভাগ্য ভালো যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি সফল হতে পারেনি। '  


ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা ৬২ বছর বয়সী আন্দ্রে রদ্রিগুয়েজ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, 'আমি ঘূর্ণায়মান দরজার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা গেল এবং সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করল। ' 
 

৫১ বছর বয়সী আলিসজা ওল্ডউস্কি বলেছেন, 'যখন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তখন আমি একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাচ্ছিলাম। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত এক নারী রাস্তায় পড়ে গেলেও তাকে ওঠানোর জন্য কেউ থামল না। সবাই দৌড়াচ্ছিল। একসময় সব কিছু স্তিমিত হলো। ' 


আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন বলছে, গাজায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আবেগতাড়িত হয়েই আকায়েদ এ ধরনের হামলা চালাতে পারেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলের 'অনুপ্রবেশ' তিনি মেনে নিতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেননি তিনি।


অন্যদিকে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে আকায়েদের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না- সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট হয়নি। কিছু সংবাদমাধ্যম এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ করেছে।  


নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও'নিল বলেছেন, 'আকায়েদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া গেছে। ' কিন্তু সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। তবে তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন বলেছে, 'এ বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ' 


বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আকায়েদ উল্লাহর নিউ ইয়র্ক শহরে ট্যাক্সি ও লিমোজিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল। ২০১৫ সালের মে মাসের পর ওই লাইসেন্স আর নবায়ন করা হয়নি। তবে শহরের ইয়েলো ট্যাক্সি বা উবার চালানোর লাইসেন্স তার ছিল না।


গুরুতর আহত আকায়েদ উল্লাহকে এখন বেলেভু হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণে তার হাত ও পেটের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণে আরো চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়।


সোমবারের হামলাস্থল পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন নিউ ইয়র্ক থেকে নিউজার্সি পর্যন্ত বিভিন্ন বাস এই টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া গ্রেহাউন্ড ও পিটারপ্যানের মতো দূরবর্তী স্থানগুলোয় যাত্রী পরিবহনকারী বাসগুলোও এখান থেকেই ছেড়ে যায়। গড়ে প্রতিদিন এই বাস টার্মিনাল দিয়ে আড়াই লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন।


আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে এনবিসি নিউ ইয়র্কের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।


টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাতাল স্টেশন থেকে যখন মানুষ প্যাসেজ ধরে উঠে আসছিল, তখন বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়ার মধ্যে এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। গণমাধ্যমে আসা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মুখে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি পড়ে আছেন, তাঁর পেটে আড়াআড়ি লম্বা ক্ষতচিহ্ন। তাঁর প্যান্ট মোটামুটি অক্ষত থাকলেও ক্ষতচিহ্নের ওপরে শার্ট ও গেঞ্জি পুড়ে গেছে।


-সূত্র: কালের কন্ঠ

 


Top