বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ হচ্ছে আজ: আইনমন্ত্রী | daily-sun.com

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ হচ্ছে আজ: আইনমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:২১ টাprinter

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ হচ্ছে আজ: আইনমন্ত্রী

 

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট আজ সোমবার (১১ ডিসেম্বর) প্রকাশ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দুইদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।


আইনমন্ত্রী বলেন, গেজেট হয়ে গেছে এখন শুধু প্রকাশের অপেক্ষা। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার কারণে এই গেজেট প্রকাশে দেরি হয় বলেও জানান তিনি।


এর আগে গতকাল রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

 

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের করা সময়ের আবেদনের শুনানি শেষে গেজেট প্রকাশে আজ ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।

 

এর আগে গত ৫ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের করা চার সপ্তাহের সময়ের আবেদনের শুনানি শেষে গেজেট প্রকাশে আজ ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।


এর আগে গত ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের চার সপ্তাহের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞার নেতৃত্বের ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।  


এর আগেও গেজেট প্রকাশে দফায় দফায় সময় নেয় সরকার পক্ষ। তারও আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।

সেই থেকে এ পর্যন্ত ওই গেজেট প্রণয়নে ২৫ বারের মতো সময় নিয়েছে সরকার।


এদিকে রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে ৩ ডিসেম্বরের আগেই অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ও আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত ১৬ নভেম্বর রাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। ওইদিন বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতির হুকুম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এ গেজেট প্রকাশ করব। তিনি অনুমতি দিলে ৩ ডিসেম্বরের আগে গেজেট প্রকাশ করতে পারব। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমতির অপেক্ষা। ’


গত ২১ নভেম্বর রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের ৩৭তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির চূড়ান্ত খসড়া (ফাইনাল ড্রাফট) তৈরি করে সোমবারই (২০ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে।


ওই দিন আনিসুল হক আরও বলেন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট নিয়ে আমি এতটুকু বলতে পারি, গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) আমরা বসেছিলাম এবং এ ব্যাপারে যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, তাতে আমাদের যে ক্ষুদ্র মতভেদ ছিল সেটা দূর হয়েছে এবং সমাধান হয়েছে।


তিনি বলেন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে যে খসড়ায় একমত হয়েছি সেটার চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গতকাল সেটা সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে যে মুহূর্তে ফিরে আসবে, আমি আইন মন্ত্রণালয় থেকে সেটা মাহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব।


‘বিচার বিভাগে দ্বৈতশাসন চলছে’ সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির এমন কথা নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয়ই দেখবেন যখন এটা (বিধিমালার গেজেট) বের হবে...দ্বৈতশাসন আছে কি-না...এবং দেখেন, উনার এসব কথার প্রত্যেকটার জবাব আমি দিতে পারব না। তার কারণ হচ্ছে, আমি দেব না। আরেকটা কথা হচ্ছে যে, আপনারা দেখেছেন যে, কত দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়েছে, প্রধান বিচারপতি (প্রাক্তন) চলে যাওয়ার পরে। আমার মনে হয় বাকিটুকু আপনারা বুঝে নিতে পারবেন।

 

এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই বিষয়ে শুনানির জন্য ৮ অক্টোবর দিন ঠিক করেছিলেন। এর আগে এ বিষয়ে ছুটিতে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে দুই দফা বৈঠকও করেছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। ওই বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ এক সপ্তাহের মধ্যেই হবে। কিন্তু এরপরেও বিচারকদের চাকরিবিধি প্রকাশে এ নিয়ে কয়েক দফা সময় নিয়েছে সরকার।


এর আগে গত সোমবার (৩০ জুলাই) বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন আদালত। ওই দিন শৃঙ্খলাবিধির খসড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত বলেছিলেন, আইনমন্ত্রী যে খসড়া জমা দিয়েছেন তা আপিল বিভাগের পরামর্শ মতো হয়নি। আমরা এটা গ্রহণ করছি না। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা হবে।


এরও আগে গত ২ জুলাই সময় চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'কত দিন?' এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দুই সপ্তাহ। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্যে করে প্রধান বিচারপতি বলেন- ‘এটাই লাস্ট চান্স’।

 

এর আগে গত ৮ মে শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রণয়নে সরকারকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। গেজেট প্রকাশ না করার বিষয়ে ইঙ্গিত করে ওই দিন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আড়াই বছরে যেহেতু সম্ভব হয়নি, আড়াই হাজার বছরেও মনে হয় তা সম্ভব হবে না।


জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ৭ম দফায় আলাদা আচরণ ও শৃংখলাবিধি প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সেটি আজও প্রণয়ন হয়নি।


এ অবস্থায় একাধিকবার আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃংখলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি কমিটি গঠন করে ওই খসড়া বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট জারির জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।


এ বিষয়ে শুনানিকালে গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি শৃংখলাবিধি তৈরি করে দিয়েছি। এটির আলোকে গেজেট জারি করে ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়।


এরপর সরকার একের পর এক সময় চাইতে থাকেন। এক পর্যায়ে গত ডিসেম্বরে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আপিল বিভাগে তলব করা হয়। ১২ ডিসেম্বর দুই সচিবকে হাজির হয়ে এই শৃংখলাবিধির গেজেট জারির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।


এ অবস্থায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, 'অধস্তন আদালতের বিচারকগণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃংখলাবিধির খসড়া গেজেটে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নেই। এ ব্যাপারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সানুগ্রহ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। '


১২ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব হাজির হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে আদালতের কাছে এই পত্র তুলে ধরেন।


ওইদিন আপিল বিভাগ বলেন, 'এটা কী লিখেছেন। আমরা তো খসড়া বিধিমালার কোনো প্রস্তাব দেইনি। মাসদার হোসেন মামলার ১২ দফা নির্দেশনায় এই আলাদা চাকরিবিধি তৈরির কথা আছে। ১৪ বছরেও এই বিধি তৈরি হয়নি। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বিধির খসড়া আপনারাই তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন। সরকার যে খসড়া পাঠিয়েছিল মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই খসড়া সংশোধন করে দিয়েছি মাত্র। আমরা তো কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি। রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। '


শুনানি শেষে আদালত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ওই শৃংখলাবিধির গেজেট জারি করার জন্য নির্দেশ দিয়ে ওইদিন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। এরপরও দফায় দফায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময় আবেদন করা হয়।  


আরও পড়ুন:


বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির নিয়ে আপিল বিভাগের ক্ষোভ,আইনমন্ত্রীর খসড়া গ্রহণ করেননি
 

আগামী সপ্তাহেই বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: আইনমন্ত্রী


এটাই লাস্ট চান্স: অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি


আইন না জেনে মন্ত্রণালয় ব্যবধান সৃষ্টি করছে: প্রধান বিচারপতি


সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন কত দূর? সরকারকে আপিল বিভাগের প্রশ্ন


আইন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় বিচার বিভাগ অকেজো হচ্ছে: প্রধান বিচারপতি

 


Top