রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে চান অর্থমন্ত্রী | daily-sun.com

রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে চান অর্থমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:১৩ টাprinter

রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে চান অর্থমন্ত্রী

 

ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) দুনিয়া থেকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। শুক্রবার রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শনিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে এমন মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।


রয়টার্সের শুক্রবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নিউইয়র্কের রিজার্ভ ব্যাংক এবং অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সুইফটের সহযোগিতায় রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার কথা ভাবছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বৈঠকও হয়েছে।


ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সিদ্ধান্ত (মামলা করার ব্যাপারে) নিয়েছে। তারা আমাকে বিষয়টি জানাবে। তবে যেহেতু ফিলিপাইন সরকার বিষয়টি দেখছে (চুরির ব্যাপারে তদন্ত), সেহেতু আমরা আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ’


‘তবে রিজাল ব্যাংক মনে হয় কুকর্মের সঙ্গে জড়িত। আমরা রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাই। ’

 


ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে যে ৮ কোটি ডলারের বেশি অর্থ চুরি হয় তা চলে যায় এই রিজাল ব্যাংকে। চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকটি প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে তা প্রত্যাখ্যান করে।

এমনকি ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলা হয়, এ ব্যাপারে তাদের কোনো দায় নেই এবং তারা কোনো ক্ষতিপূরণও দিতে পারবে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতির কারণেই ওই অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে।


এদিকে, রবিবার অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আরসিবিসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।


প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সুইফটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ৩৫টি অবৈধ ভুয়া পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন দেয় হ্যাকাররা।  
 
 
এর পর ৫টি পেমেন্ট ইন্সট্রাকশনের এ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলংকায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিমওয়া ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নেন। পরে ফিলিপাইন সরকার এ অর্থ উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এ ছাড়া আরসিবিসি ব্যাংকে জমা থাকা ৭০ হাজার ডলারও ফেরত এসেছে। অর্থাৎ মোট ফেরত পাওয়া অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার (৫৩১ কোটি ২০ লাখ টাকা) ফিরিয়ে আনতে মামলা করা হচ্ছে।
 

৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার আছে সোনেয়ার রিসোর্ট ও ক্যাসিনো ম্যানিলার ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আছে ফিলিপাইনের রেমিট্যান্স কোম্পানি ফিলরেমোর হিসাবে। আর ৬০ লাখ ডলার এখনও রয়েছে কিম অংয়ের কাছে।  
 

এ ছাড়া ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে কিম ওয়াংয়ের দুজন কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান মেলেনি ১ কোটি ৪২ লাখ ডলারের।
 

ওই সময়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মামলা করা হয়। তবে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি গত ২২ মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি।  
 

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান।  
 

এ ঘটনায় রিজল ব্যাংককে ২০ কোটি ডলার জরিমানাও করেছে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলেও বাংলাদেশকে বাকি অর্থ ফেরতে কোনো দায় নিতে নারাজ ব্যাংকটি।


এদিকে মার্কিন কিছু কর্মকর্তা এর আগে বলেন, হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস বাংলাদেশ ব্যাংকের এই অর্থ চুরির, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাইবার হ্যাকিং’ সঙ্গে জড়িত, যাদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেন ওই কর্মকর্তারা। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি।

 


Top