হোয়াইট হাউজের সামনে নামাজ পড়ে প্রতিবাদ | daily-sun.com

হোয়াইট হাউজের সামনে নামাজ পড়ে প্রতিবাদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৬ টাprinter

হোয়াইট হাউজের সামনে নামাজ পড়ে প্রতিবাদ

 

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির ঘোষণার প্রতিবাদে এবার প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউজের সামনে জুমার নামাজ পড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়। গতকাল শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) মুসলিম কমিউনিটির আহ্বানে কয়েকশ’ মুসলিম হোয়াইট হাউজের সামনে জড়ো হন।

এরপর পাটি বিছিয়ে তারা সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন। খবর: এএফপি।


নামাজ শেষে সেখানে মুসল্লিরা বিক্ষোভ করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই মাথায় ফিলিস্তিনিদের কেফিয়া এবং হাতে পতাকা বহন করেন। অনেকের হাতে ছিল ইসরাইলের দখল করা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের প্লা-কার্ড।


বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআ)- এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনের মাটির মালিক নন। তিনি ট্রাম্প টাওয়ারের মালিক। ইসরাইলকে কিছু দিতে চাইলে এটি দিয়ে দিক।


নিহাদ আওয়াদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খ্রিস্টান ধর্মের উগ্রপন্থী বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের উচিত আমেরিকান স্বার্থরক্ষায় সর্বপ্রথম কাজ করা। অন্যের লবিংয়ে, তাদের খুঁটি হয়ে কাজ না করা।

 


আরেক বিক্ষোভকারী জাহিদ আল-হারশেহ বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত শান্তির জন্য নয়। তিনি সেখানে আরো গণ্ডগোল তৈরি করছেন। এতে মুসলিম বিশ্বের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।


প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগ, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সতর্ক বাণী উপেক্ষা করেই বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


ফলে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রই হল প্রথম রাষ্ট্র যারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিল। আর তার এই ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ।


এমনকি ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎস এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে মন্তব্য করেছে, এই সিদ্ধান্তে শুধু লাভ হলো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার অতি কট্টরপন্থী সমর্থকদের।

 


এছাড়া ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইল গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বহু হতাহত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নতুন করে ইন্তিফাদার বা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলেও মনে করে সংগঠনটি। এমন অস্থিতিশীল অবস্থার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ম্যাথু রেক্রফট নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেন।


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, জাপানসহ বেশ কয়েকটি সদস্যদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার নিন্দা করেছে।


১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ দখল করে নেয়া হয়। পরে ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধের পর পূর্বাংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। দখলের পর থেকেই ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র এ শহরটিতে নিজেদের পুরো কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করছিল ইসরাইল। এই ইস্যুতে অসংখ্যবার ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের পবিত্র ভূমিতে আগুন জ্বলতে দেখে গেছে।


১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০০ সালে এবং সম্প্রতি ২০১৭ সালে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইসরাইলি পুলিশের মেটাল ডিটেক্টর বাসানোর জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে।

 
ট্রাম্পের বিতর্কিত ওই ঘোষণার পরই বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 


Top