জেরুজালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুক্রবার | daily-sun.com

জেরুজালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুক্রবার

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:১০ টাprinter

জেরুজালেম ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শুক্রবার

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্কতা সত্ত্বেও জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণায় ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্ব। গাজা, বেথেলহেম, তুরস্কের আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এরই প্রেক্ষিতে আগামীকাল শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সংস্থার আটটি সদস্য রাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৈঠকে বসার ঘোষণা দিয়েছে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ।


কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ফ্রান্স, বলিভিয়া, মিসর, ইতালি, সেনেগাল, সুইডেন, ব্রিটেন ও উরুগুয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেসের কাছে এই বৈঠকের আহ্বান জানায়।


প্রসঙ্গত, ইসরাইল মনে করে, জেরুজালেম তাদের স্থায়ী ও অবিভাজ্য রাজধানী। আর ফিলিস্তিনিরা মনে করে, ভবিষ্যতে তাদের যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে তার রাজধানী হবে জেরুজালেম। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর ইসরাইল জেরুজালেমের পূর্বাংশ দখল করে নেয় এবং আস্তে আস্তে বসতি স্থাপন করে তা আরো বিস্তৃত করে। অথচ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোনো সমর্থন নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ উদ্যোগের ব্যাপারে বুধবার (৬ ডিসেম্বর) জাতিসংঘে সুইডেনের ডেপুটি দূত কার্ল স্কাউ বলেছেন, ‘জাতিসংঘ জেরুজালেমকে বিশেষ বৈধতা ও রাজনৈতিক মর্যাদা দিয়েছে, আর এর প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মর্যাদা জানাবে বলেই মনে করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আর সে কারণেই আমরা মনে করি, নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে।’ 

 


গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের ৪ জুন জেরুজালেমসহ অন্যান্য শহরের ব্যাপারে যে চুক্তি হয়েছে তাতে কোনো পরিবর্তনকে সমর্থন দেবে না নিরাপত্তা পরিষদ। ওই প্রস্তাবের পক্ষে সংস্থাটির ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪টি রাষ্ট্র সমর্থন নেয়।


আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সরকার। ভেটো না দিয়ে কেন বিরত থাকল- এ নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরাইল ও ট্রাম্পের চাপের মুখেও পড়ে ওবামা প্রশাসন।


এদিকে, বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়া বিপন্ন করে এমন যেকোনো একক সিদ্ধান্তের আমি বার বার বিরোধিতা করেছি।’


তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন গভীর উব্দেগের সময়, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, দ্বি-রাষ্ট্র (ইসরাইল-ফিলিস্তিন) সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ অর্থপূর্ণ আলোচনায় ফিরলে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’


কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হেলি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক সময়ে সঠিক কাজ’ বলে প্রশংসা করেছেন।  

 


প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লিগ, সৌদি আরব, জর্ডান, তুরস্ক, ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সতর্ক বাণী উপেক্ষা করেই বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে হোয়াইট হাউজে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময় বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।


ফলে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রই হল প্রথম রাষ্ট্র যারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিল।


১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ দখল করে নেয়া হয়। পরে ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধের পর পূর্বাংশ দখল করে নেয় ইসরাইল। দখলের পর থেকেই ঐতিহাসিকভাবে পবিত্র এ শহরটিতে নিজেদের পুরো কর্তৃত্ব খাটানোর চেষ্টা করছিল ইসরাইল। এই ইস্যুতে অসংখ্যবার ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের পবিত্র ভূমিতে আগুন জ্বলতে দেখে গেছে।


১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০০ সালে এবং সম্প্রতি ২০১৭ সালে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইসরাইলি পুলিশের মেটাল ডিটেক্টর বাসানোর জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে।

 

 

 


Top