ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনে আপত্তি স্ত্রীর | daily-sun.com

ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনে আপত্তি স্ত্রীর

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:০৮ টাprinter

ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনে আপত্তি স্ত্রীর

 

কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে অপহরণ অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ফের তদন্তের আবেদন করবেন ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তার। তিনি বলেন, মামলাটির সঠিক তদন্ত হয়নি।

তাই পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। তাহলে এর মূল রহস্য উদঘাটন হবে।  


বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন ফরহাদ মজহারের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবাহ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ জানুয়ারি নারাজি আবেদন ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের দিন ধার্য করেন।  


এসময়ে ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আক্তারও আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এটি একটি আলোচিত মামলা। আমরা মনে করি মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি। এজন্য আমরা এ প্রতিবেদনে নারাজি দিয়ে মামলাটি ফের তদন্তের আবেদন করবো।

এজন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য সংগ্রহের জন্য সময়ের আবেদন করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

 
পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উত্থাপন করা হলে মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম ‘দেখিলাম’ বলে সাক্ষর করেছেন। ফরহাদ মজহারের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ বলেন, কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলাতে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আমরা মনে করি মামলাটির সঠিক তদন্ত হয়নি। তাই আদালতে নারাজি দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদন দাখিল করেছি। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।


এর আগে গত ১৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে ফরহাদ মজহার অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।


অপরদিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও হয়রানির অভিযোগ দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।


গত ৩ জুলাই ভোরে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। পরে স্ত্রীকে নিজের মোবাইল ফোনে জানান, কে বা কারা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে মেরেও ফেলা হতে পারে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়বার ফোন করে ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।


নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।


ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতেই স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ১০১।

 


Top