স্বর্ণখাতে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ণের সুপারিশ টিআইবি’র | daily-sun.com

স্বর্ণখাতে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ণের সুপারিশ টিআইবি’র

ডেইলি সান অনলাইন     ২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:৫৫ টাprinter

স্বর্ণখাতে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ণের সুপারিশ টিআইবি’র

স্বর্ণখাতকে আইনী কাঠামোর আওতায় আনতে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ণের সুপারিশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

আজ রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি’র নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

 

স্বর্ণখাতকে রক্ষা করতে এর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মনে করে টিআইবি। ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, সরকার ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের কথা ঘোষণা দিয়েছে। 

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কাস্টমস এর কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির চলমান উদ্যোগ হিসেবে স্থল (বেনাপোল) ও বিমান (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) বন্দরে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ ও ‘আর্চওয়ে’ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ‘কার্গো এরিয়া’তে সীমিত সংখ্যাক ব্যাগেজ স্ক্যানিং যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। জনবল সংকট নিরসনে বর্তমানে প্রবেশ স্তরে সরাসরি কর্মকর্তা নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে এবং এই স্তরে আগের তুলনায় নিয়োগ বৃদ্ধির কথা জানা যায়।

 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত চার বছরে আটককৃত স্বর্ণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৭৫ কেজি। যা বছর প্রতি ৪১৮.৭৩ কেজি। বৈধ পথে আমদানি না হওয়ায় সরকার বছরে রাজস্ব হারাচ্ছে ৪৮৭ থেকে ৯৭৪ কোটি টাকা।

 

সংস্থাটির পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। গবেষক মো. রেজাউল করিম ও অমিত সরকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশের স্বর্ণখাত সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করতে হবে। কর প্রদান সাপেক্ষে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীকে তাদের প্রতিষ্ঠানের মজুত সকল স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। নিবন্ধনের পূর্বশর্ত হিসেবে সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত লাইসেন্স বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নবায়ন করার কথা বথা হয়। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে বলেও সুপারিশ করা হয়। নির্ধারিত ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা থেকে নিবন্ধনধারী স্বর্ণ ব্যবসায়ীগণ জাতীয় পরিচয়পত্র ও টিআইএন সার্টিফিকেট প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রতি অর্থবছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ ক্রয় করতে পারবেন। 

 

স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহে যেমন- বাংলাদেশ ফিন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ), শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, এনবিআর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আটক সংশ্লিষ্ট মামলা তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের পাশাপাশি আটককারী সংস্থা দ্বারা সমন্বিত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অভিযোগপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

 

সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করার উপর গুরাত্ব আরোপ করে বলা হয়, এ টাস্কফোর্স প্রণীত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বর্ণ ব্যবসা সংক্রান্ত কর্মকান্ড মূল্যায়ন ও স্বর্ণ খাতে সুশাসন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে। সর্বোপরি, এই কমিটি স্বর্ণ নীতিমালার নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


Top