তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর: সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে মামলা | daily-sun.com

তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর: সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে মামলা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:২৬ টাprinter

তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর: সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে মামলা

 

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনস-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীদের নির্ধারিত ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাক্ষীদের খুঁজে না পাওয়ায় পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি আলোচিত এ মামলা।  


পাঁচ বছর আগে ২৪ নভেম্বরের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক। এ ঘটনায় করা মামলাটির বিচার কাজ চলছে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে।


মামলাটির বিচার শুরু হওয়ার দুই বছর পার হয়েছে। এই দুই বছরে ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৭ জন। বাকি সাক্ষীদের বারবার সমন জারি করার পরও তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির হচ্ছেন না। রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করছেন, সাক্ষীরা নির্ধারিত ঠিকানায় থাকেন না। মামলার অভিযোগপত্রে অধিকাংশ সাক্ষীর স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ নেই। তাই নির্ধারিত ঠিকানায় সাক্ষীদের খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না।


রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন বলেন, তাজরীন ফ্যাশনস-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা গুরুত্বপূর্ণ এ মামলাটির অভিযোগপত্রে অধিকাংশ সাক্ষীর বর্তমান ঠিকানা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঠিকানায় অধিকাংশ সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি সাক্ষীদের স্থায়ী ঠিকানা দেয়া থাকত তাদের খুঁজে বের করে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির করা যেত। তবে আমরা আশা করছি আলোচিত এই মামলাটি খুব দ্রুত শেষ করতে পারব।


আসামি পক্ষের আইনজীবী এটি এম গোলাম গাউস বলেন, অধিকাংশ তারিখে মামলার সাক্ষী আদালতে হাজির হচ্ছে না। সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলাটি গতি পাচ্ছে না। আমরা চাই মামলাটি যেন খুব দ্রুত শেষ হয়। ন্যায় অন্যায় আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। আর আদালত যে রায় দেবেন আমরা মাথা পেতে নেব।


মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডের পরদিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় নাশকতার পাশাপাশি অবহেলাজনিত মৃত্যুর দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারা যুক্ত করা হয়।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিজিএম) আদালতে তাজরীন ফ্যাশনস- এর এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।


চার্জশিটভুক্ত বাকি আসামিরা হলেন, তাজরীন ফ্যাশনস-এর চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।


২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ এসএম কুদ্দুস জামান। মামলায় ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

 


Top