বারী সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার অবনতি | daily-sun.com

বারী সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার অবনতি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:১৫ টাprinter

বারী সিদ্দিকীর শারীরিক অবস্থার অবনতি

 

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকীর অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে।  তিনি লাইফ সাপোর্টে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী।  


তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রাতটা পেরোলে কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু আজ (রোববার) সকাল থেকে শুনছি অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেছে। ডাক্তার বলেছেন, আপনারা দোয়া করেন। এছাড়া আপাতত কিছু করার দেখছি না।


এর আগে শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১ টার দিকে বারী সিদ্দিকী হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আধাঘণ্টার মধ্যে অচেতন অবস্থায় তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্ট দেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে তার এক দফা ডায়ালাইসিস করা হয়।


সাব্বির সিদ্দিকী বলেন, কিডনির সমস্যা কারণে দুই বছর ধরে বারী সিদ্দিকীর ডায়ালাইসিস চলছিল। শুক্রবার রাতে মেজর হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর ডাক্তাররা লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান তাকে। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আব্দুল ওয়াহাবের তত্বাবধানে রয়েছেন বারী সিদ্দিকী।


বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। 


দীর্ঘদিন সংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সবার কাছে বারী সিদ্দিকী শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে। ওই বছর হ‌ুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে তার গাওয়া ছয়টি গানই  ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার জনপ্রিয় হওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শুয়াচান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’। এরপর তিনি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। তার গাওয়া গান নিয়ে বেরিয়েছে অডিও অ্যালবাম।


বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।


সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

 


Top