কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশ খালেদার | daily-sun.com

কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশ খালেদার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:২১ টাprinter

কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করার নির্দেশ খালেদার

 

কোন্দল মিটিয়ে দলকে শক্তিশালী করতে সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলে যাতে কোনো দুর্বলতা না থাকে সেজন্য এখন থেকে সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। শনিবার (১৮ নভেম্বর) দিনগত রাতে দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্টিত হয়।


রাত সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হয়ে সোয়া দুই ঘণ্টার এ বৈঠক রাত পৌনে ১২টায় শেষ হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে চান খালেদা জিয়া। তাই সফলতার দুয়ারে যেতে প্রধান বাধা অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দ্রুত মিটমাট করতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে ভাইস চেয়ারম্যানদেরকে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলায় গিয়ে নেতাকর্মীদের অভিযোগ শুনে শিগগিরই সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন।


বৈঠকে অংশ নেয়া একজন নেতা জানান, দ্রুত জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। যেসব জেলায় বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে শিগগিরই মীমাংসা করার জন্য বলেছেন। যারা দলে বিভেদ-বিশৃংখলা করবে তাদের বহিস্কার করা হবে বলে কড়া হুশিয়ারি দেন বেগম জিয়া। বৈঠকে চেয়ারপারসনের কয়েকটি জেলা সফর নিয়েও আলোচনা হয়।


বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ম্যাডাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। সংগঠন শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে, এটি খুব সাধারণ বিষয়। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে নির্বাচনই ক্ষমতার পালা বদলের চূড়ান্তপথ। কিন্তু নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার, সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেক্ষতা, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে নির্বাচনের যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।


দলের আরেকজন নেতা জানান, বেগম জিয়া বৈঠকে অংশ নেয়া দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের প্রতিক্রিয়া শোনেন। এরপর তিনি সময় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে যার যার নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ জেলায় সভা ও সমাবেশ করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে সংগঠন গোছাতে বলেছেন। বৈঠকে আগামীতে ঢাকার বাহিরে বড় সমাবেশ করার ব্যাপারে আলোচনা হয়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


এসময় বেগম জিয়া দেশের জনগণকে উজ্জীবিত করতে এবং কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজাতে বলেন। আর সে জন্য জেলা বিশেষ করে নিজ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।


সহায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়া না হলে বিকল্প কী ভাবছেন খালেদা জিয়া -এমন প্রশ্নের জবাবে দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এই দাবি আদায়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই সাংগঠনিকভাবে শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত জোর দেয়া হচ্ছে। এ জন্য সংগঠনকে আরও মজবুত করতে হবে।


বৈঠকের আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। বৈঠকে দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত, গুম-খুন-অপহরণ, অর্থনীতিতে লুটপাট অরাজকতা এসব নিয়ে আলাপ হলেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা হয়নি।


আজ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে এই বৈঠক আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে দলের উপদেষ্টা মন্ডলী এবং সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বেগম জিয়া।


বৈঠক সূত্রে জানায়, দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাস ভবন পর্যন্ত, কক্সবাজার সফর এবং সবশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে সরকারের বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করায় তিনি নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।


খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে এই বৈঠকে ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- এম মোরশেদ খান, হারুন আল রশিদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মো. নাসিরউদ্দিন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহমুদুল হাসান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আমিনুল হক, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও শওকত মাহমুদ। এ ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।  

 


Top