প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারি: বিশ্বের রাঘববোয়ালদের নামের সঙ্গে মিন্টুর পরিবার | daily-sun.com

প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারি: বিশ্বের রাঘববোয়ালদের নামের সঙ্গে মিন্টুর পরিবার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১২:১৩ টাprinter

প্যারাডাইস পেপার কেলেঙ্কারি: বিশ্বের রাঘববোয়ালদের নামের সঙ্গে মিন্টুর পরিবার

 

বিশ্বের রাঘববোয়ালদের নামের সঙ্গে প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারিতে ১০ বাংলাদেশির নাম এসেছে। এদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। তালিকায় একটি প্রতিষ্ঠানের নামও এসেছে। 


আইসিআইজে’র ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকায় ঠিকানাসহ যেসব বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ক্রমানুযায়ী উল্লেখ করা রয়েছে তারা হলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, স্ত্রী নাসরিন ফাতিমা আউয়াল এবং তিন ছেলে- মো. তাবিথ আউয়াল, মোহাম্মদ তাফসির আউয়াল ও মো. তাজওয়ার আউয়াল, তাজওয়ারের অভিভাবক হিসেবে আব্দুল আওয়াল মিন্টু।


এছাড়া রয়েছে ফয়সাল চৌধুরী, ফরিদা ওয়াই মুগল, শহিদ উল্লাহ ও সামির আহমাদের নাম।

 


আর তালিকায় থাকা একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি হলো ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট (বাংলাদেশ) লিমিটেড। তাদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৫০ মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।


প্যারাডাইস পেপার্সের আগে গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতেও বাংলাদেশের ২১ ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ১৮টি ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছিল।


প্যারাডাইস পেপারস হচ্ছে বিশ্বের ১৮০টি দেশের রাজনীতিক, সেলিব্রিটি ও বিত্তশালী মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেন ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের এক বিশাল ডাটাবেজ। এই ব্যক্তিরা কর ফাঁকি দিতে বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনে (কর দিতে হয় না বা সামান্য হারে কর দেওয়া যায় এমন দেশ) বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সম্প্রতি তাদের কর ফাঁকি দেওয়া বিষয়ের এক কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে পড়েছে। জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং প্রকাশ করেছে এ কেলেঙ্কারির কথা।

 

মো. তাবিথ আউয়াল


অধিকাংশ নথিই প্রকাশ হয়েছে বারমুডার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান  অ্যাপলবাই থেকে। অ্যাপলবাই নামের এক আইনি সহযোগী সংগঠনের গোপন নথি জোগাড় করে তা দিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টকে (আইসিআইজে)। ৬৭টি দেশের ৩৮০ জন সাংবাদিক ১ কোটি ৩৪ লাখ দলিলের তথ্যাদি এখন তদন্ত করে দেখছেন। গত ৫ নভেম্বর প্রথম তারা তথ্য ফাঁস করে। সেদিন কেলেঙ্কারির সঙ্গে বিশ্বের ১২০ জন রাজনৈতিক নেতার নাম প্রকাশিত হয়। এদের মধ্যে আপাতত সবচেয়ে বড় নামটি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। আরও রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন মন্ত্রীসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালীর নাম।

 


এছাড়া যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান ও অন্যতম অর্থদাতা লর্ড অ্যাশক্রফটের অফশোর বিনিয়োগের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অ্যাপল, নাইকি ও উবারসহ প্রায় ১০০ বহুজাতিক কোম্পানির কর পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে ফাঁস হওয়া এসব নথিতে।


প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারিতে এখন পর্যন্ত বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনসহ ৭১৪ জন ভারতীয়ের জড়িতে কথা জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টু ডে। আরও যাদের নাম রয়েছেন তারা হলেন, আরেক বলিউড তারকা সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী মনিতা দত্ত, মোদীর সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা, করপোরেট লবিস্ট নিরা রাডিয়া ও ফোর্টিস এসকোটস হার্ট ইনস্টিটিউট এর চেয়ারম্যান অশোক শেঠসহ বেশ কিছু সেলিব্রেটি ও নেতা-মন্ত্রীদের নাম।  

 


এরই ধারাবাহিকতায় আইসিআইজে’র ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকায় ঠিকানাসহ বাংলাদেশি এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। অ্যাপলবাই থেকে ফাঁস হওয়া গোপন নথির বরাতে আইসিআইজে জানায়, আউয়াল পরিবারের সদস্যরা ১৯৯৯ সালের ৯ আগস্ট বারমুডায় ‘এনএফএম এনার্জি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে গোপনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন।


এক বছর আগে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল জার্মান দৈনিক জিতডয়েচ সাইতং। এবারও তারাই বিশ্বের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, তারকা, করপোরেট অঙ্গনের ক্ষমতাধর ও ব্যবসায়ী নেতাদের আর্থিক লেনদেন ফাঁস করেছে। পানামা পেপারসের পর এটাকে বলা হচ্ছে ‘প্যারাডাইজ পেপারস’। গত ৫ নভেম্বর প্রথম আইসিআইজে তাদের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশ করে। ওইদিনই সংগঠনটি জানায়, তদন্তের এখন শুরু মাত্র। তাই পুরো তথ্য পাওয়া এখনো সম্ভব নয়। ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে তারা।


পানামা পেপার্সের জেরে গদি হারিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এবার প্যারাডাইস পেপার্সে নাম জড়াল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজেরও।

 

 

-সূত্র: আইসিআইজে, দ্য গার্ডিয়ান

 


Top