৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদ্‌যাপন: সমাবেশের জন্য প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান | daily-sun.com

৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদ্‌যাপন: সমাবেশের জন্য প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:৫৩ টাprinter

৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদ্‌যাপন: সমাবেশের জন্য প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ইউনেস্কো স্বীকৃতি উপলক্ষে নাগরিক সমাবেশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হবে।  


আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে মূল মঞ্চ সাজানোসহ সমাবেশস্থলের আশপাশ এলাকা সাজানো হয় হয়েছে বর্ণিল সাজে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা সংলগ্ন ফটক দিয়ে সমাবেশের অতিথিদের যাতায়াতের রাস্তা সাজানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের উল্লেখযোগ্য বক্তব্যগুলো দিয়ে। এছাড়া তাঁর বক্তব্য দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট ছোট তোরণ। পাশেই বালু ফেলে মাঠের অসমতল অংশগুলো সমান করা হচ্ছে অতিথিদের গাড়ি রাখার জন্য।


নাগরিক সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও ৭ মার্চের ভাষণের ছবি সম্বলিত প্লা-কার্ড বহন করছেন।


এদিকে, পাটের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলায় সমাবেশ থেকে নৌকায় করে পাট তুলে ধরা হবে। সেজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো করা হয়েছে প্রায় ২০টি নৌকাও। আর বসার জন্য প্যান্ডেল তৈরিসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিনভর ব্যস্ত দেখা গেছে শ্রমিকদের।

 

এদিকে, সমাবেশ স্থলের সার্বিক নিরাপত্তা ও রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সমাবেশ ঘিরে আগেই শাহবাগ এলাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এরপরও এর প্রভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও অন্য এলাকায় গাড়ির বাড়তি চাপ দেখা গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সমাবেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিএমপি এটি সরাসরি মনিটর করছে।


সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিস কালদুলের হাতে সমাবেশ থেকে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব হস্তান্তর করা হবে।


সমাবেশে আরও বক্তব্য দেবেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রমুখ।

 


নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করবেন কবি নির্মলেন্দু গুণ ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।


অন্যদিকে সমাবেশের মূল মঞ্চের সামনেই তৈরি করা হচ্ছে পৃথক আরেকটি মঞ্চ। যেখানে থাকবেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজন। এ মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির দলীয় সঙ্গীতের পর শুরু হবে একক সঙ্গীত। এরপর সঙ্গীত পরিবেশন করবেন চন্দনা মজুমদার ও সাজেদ আকবর।


১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি ঘোষণা দেন,  ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

 

 


Top