ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫, আহত ৩০০ | daily-sun.com

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫, আহত ৩০০

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:১২ টাprinter

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫, আহত ৩০০

 

ইরাক ও ইরানের উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে ভূমিকস্পের আঘাতে এ পর্যন্ত ১৪৫ জনের প্রাণহানি খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। খবর- রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও বিবিসির। রবিবার (১২ নভেম্বর) রাতে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাতের এ ঘটনা ঘটে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প দেশের উত্তরাঞ্চলের কারমানশাহ প্রদেশের ইরাক সীমান্ত এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে সেখানে অন্তত ১২৯ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ইরাকে চারজন নিহত হয়েছেন বলে কুর্দি স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।


ভূমিকম্পের সময় ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি এমনকি ইসরায়েল এবং কুয়েতেও কম্পন অনুভূত হয়।


ইরানের কারমানশাহ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মুজতবা নিক্কারদার বিবিসিকে বলেন, ‘এখনো অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

 


সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার দূরের শহর শারপুল-ই-জাহাব শহরে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান ডেপুটি গভর্নর। তিনি আরো জানান, এই এলাকাটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


রাতের বেলা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার উড়ে যেতে পারেনি। অনেক স্থানে সড়কপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সও যেতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষত, যেসব গ্রাম কিছুটা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, সেখানে দুর্গত লোকজনকে উদ্ধার ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইরানের ইন্টারিয়র মন্ত্রী আবদলরেজা রাহমানি ফজলি।


লোকজন আতঙ্কে বাড়িঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ইরানের কমপক্ষে আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলছে রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা। আরও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধ্বসের কারণে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।


ইরানেরর জরুরি সহায়তা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শারপল-ই যাহাব শহরে।

 


ইরানের জরুরি সেবা বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা পীর হোসেইন কুলিভান্দ রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল আইআরআইএনএন’কে বলেছেন, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের সারপোল-ই-জাহাদ শহরে অনেকে হতাহত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


অন্যদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সংস্থার প্রধান মোর্তেজা সালিম জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৮টি গ্রামে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আরও কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেছে এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

 

 

 

 


Top