শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: খালেদা | daily-sun.com

শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: খালেদা

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৫৫ টাprinter

শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: খালেদা

 

শেখ হাসিনার অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে না হলে সে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি।


বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলেক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। রবিবার (১২ নভেম্বর) বেলা সোয়া ৩টার দিকে তিনি সভামঞ্চে ওঠেন। এর আগে দুপুর পৌনে দু’টার দিকে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়।


খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা আগেই বলেছি, পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনে। পরিবর্তন হতে হবে ভোটের মাধ্যমে। তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে হবে। মানুষকে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।


খালেদা জিয়া বলেন, নিরপক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেশের মানুষ কী চায় সেইটা যাচাই করুন। ২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয় নাই। ৫ শতাংশ ভোটও তারা পায় নাই। এ সংসদ অবৈধ, এ সরকার অবৈধ। কীভাবে বলবে জনগণের সরকার?


তিনি বলেন, বিএনপি কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। সুষ্ঠু রাজনীতি করার মাধ্যমে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। এজন্য সকল দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।


বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলব, নিরপক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনারা নিরপক্ষে সরকারের কথা বলেন। শেখ হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। চুরি করে জেতার মধ্যে আনন্দ নেই। যারা জনগণকে পাশ কাটিয়ে জিততে চায়, তারা জনগণকে ভয় পায়।


তিনি বলেন, জনগণকে নিয়ে আমাদের রাজনীতি। যদি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হয় তাহলে সেনা মোতায়েন করতে হবে। সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে। নির্বাচনে ইভিএম চলবে না।

 


বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিচার বিভাগের কী অবস্থা করেছে, আপনারা দেখেছেন। প্রধান বিচারপতিকে জোর করে অসুস্থ বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। দেশের বাইরে এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। চাপ সৃষ্টি করে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।


আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে দেশ থেকে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেহেতু ক্ষমতায়, সেহেতু তারাই এই টাকা পাচার করেছে।


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আমি জানতে চাই- ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলে এখন কেন ৭০ টাকায় জনগণকে চাল খাওয়ানো হচ্ছে।


খালেদা জিয়া বলেন, তারা কথায় কথায় উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু তারা উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে। ইউরোপ-আমেরিকায় রাস্তা নির্মাণে যে খরচের তিনগুণ খরচ করে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তাও সেগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না, ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।


তিনি বলেন, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লানকে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। সব পুরনো জিনিস বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। এগুলো একবার চলে, আবার বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। প্রতি পদে পদে ধোঁকাবাজি।


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া নেই উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ সব নিয়ন্ত্রণ করছে। শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছে। নারীদের নির্যাতন করছে। আগে গণঅত্যাচার দেখিনি। নতুন নতুন জিনিস আমদানি করছে তারা।


বিএনপি নেতা বলেন, গুম, খুন ও হত্যার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। যাদের গুম করা হয়েছে, তাদের অপরাধ তারা বিএনপি করে। বিদেশিরা এ বিষয়ে ঠিক জানে।


সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব (চাকরিচ্যুত করা) কাজ বিএনপির নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা দেখা হবে। কারো চাকরি খাওয়া হবে না।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, তত্ত্বাবধায়কের দাবি এ আওয়ামী লীগের, জামায়াতের। ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক দাবির জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছিল।


আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে- বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ হত্যা করবে। আমরা মানুষ হত্যা করি না, মানুষ হত্যা করে আওয়ামী লীগ। এটা আওয়ামী লীগের কাজ, বিএনপির নয়।


এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সমাবেশ যাতে সফল না হয় এজন্য অনেক বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমিও যাতে আপনাদের সামনে পৌঁছাতে না পারি এজন্য গুলশানে বাস দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়।


‘এই হলো এদের (সরকার) অবস্থা। এরা যে কত ছোট মনের তা প্রমাণ করে দিয়েছে। এতো ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না’ যোগ করেন খালেদা জিয়া।


খালেদা বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষ ভয় পায়। আমরা মানুষ ভয় পাই না। মানুষই আমাদের ভরসা। আমি তাদের (আওয়ামী লীগ) ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু জনগণ জানে তারা কত অবিচার করেছে।


রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এটা শুধু অবৈধ ভোটারবিহীন সরকারের সমস্যা না। এটা জাতীয় সমস্যা। তাদের শুধু ফিরিয়ে নিলে হবে না, নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে।


আন্তর্জাতিক সংস্থা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, রাশিয়া, ভারতসহ বড় বড় দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।


এর আগে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে বিকেল সোয়া ৩টায় মঞ্চে উপস্থিত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। এসময় নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এসময় খালেদা জিয়া দু’হাত নেড়ে তিনি নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে শুরু করে ৫টা ১০ মিনিটে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।


প্রসঙ্গত, ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এ সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দীমুখী নেতাকর্মীদের ঢল শুরু হয়। মঞ্চের চারপাশে অসংখ্য ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। 


তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির  সমাবেশে অংশ নিতে আসা দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত গাজীপুরে ৪৮ ও সাভারে ৭ বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সকাল থেকে হঠাৎ করে রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। 


যদিও সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সমাবেশের নামে বিএনপি রাস্তা ঘাট অচল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ থেকে বোঝা যায় ক্ষমতা গেলে তারা দেশ অচল করে দেবে। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি তাদের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।‌ খালেদা চেয়ে বড় সমাবেশ আমি কক্সবাজারে করেছি। কোনো জনদুর্ভোগ হয়নি। 


এদিকে এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৯ মাস পর রাজধানীতে জনসভা করেছে বিএনপি। এর আগে সর্বশেষ, ২০১৬ সালের ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ করে বিএনপি। এর আগে ওই বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সুযোগ পায় দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সেই সমাবেশ করে বিএনপি। শ্রমিক দল এর আয়োজন করে।

 


Top