শেখ হাসিনা না সরলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল | daily-sun.com

শেখ হাসিনা না সরলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫১ টাprinter

শেখ হাসিনা না সরলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

 

শেখ হাসিনা আসন থেকে না সরলে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে। রবিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জনগণের ভোটের অধিকার লুট করেছে। রাজস্ব লুট করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে হয়রানি করছে। জনগণের জবাব দিবে। তাদের বিচারও জনগণ করবে।


আওয়ামী লীগ নেতারা লুট করে টাকা বিদেশে জমাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেরকে জনগণের আদালতে হাজির করে বিচার করা হবে।


প্রসঙ্গত, ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এ সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দীমুখী নেতাকর্মীদের ঢল শুরু হয়। মঞ্চের চারপাশে অসংখ্য ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। 


তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির  সমাবেশে অংশ নিতে আসা দলটির নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন পর্যন্ত গাজীপুরে ৪৮ ও সাভারে ৭ বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সকাল থেকে হঠাৎ করে রাজধানীতে গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। 


সমাবেশে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার মানুষকে ভয় পায়। এ জন্য ৭ নভেম্বর আমাদের জনসভা করতে দেয়নি । আজকে অনুমতি দিয়েছে কিন্তু জনগণ যেন আসতে না পারে সেই ব্যবস্থা করেছে। গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি আমিও যেন সমাবেশে আসতে না পারি সেই ব্যবস্থাও করেছে।


আওয়ামী লীগ সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আরও বলেন, এরা যে এত ছোট মনের আজকে তারা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রমাণ করে দিয়েছে। এত ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না।


যদিও সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সমাবেশের নামে বিএনপি রাস্তা ঘাট অচল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ থেকে বোঝা যায় ক্ষমতা গেলে তারা দেশ অচল করে দেবে। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি তাদের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।‌ খালেদা চেয়ে বড় সমাবেশ আমি কক্সবাজারে করেছি। কোনো জনদুর্ভোগ হয়নি। 


এদিকে এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৯ মাস পর রাজধানীতে জনসভা করছে বিএনপি। এর আগে সর্বশেষ, ২০১৬ সালের ১ মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমিক সমাবেশ করে বিএনপি। এর আগে ওই বছরের ৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার সুযোগ পায় দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সেই সমাবেশ করে বিএনপি। শ্রমিক দল এর আয়োজন করে।

 


Top