প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গৃহীত | daily-sun.com

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গৃহীত

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩১ টাprinter

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গৃহীত

 

ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


এর আগে তিনি জানান, প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে এসকে সিনহার আবেদনটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে এই আবেদনপত্রটি এসেছে।


অস্ট্রেলিয়া থেকে কানাডা যাওয়ার পথে শুক্রবার সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতি বরাবর তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী জল্পনা তৈরি হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।


এদিকে পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে কয়েকটি গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। দেশের অধিকাংশ টিভি চ্যানেল ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন’ বলে ‘ব্রেকিং নিউজ’ প্রচার করে। তবে পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে কিনা সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্রে নিশ্চিত করতে পারেনি।  


সূত্র জানায়, সিনহা শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না-সাউথার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কানাডার উদ্দেশে রওনা দেন।

কানাডায় তার ছোট মেয়ে বসবাস করছেন।  


এদিক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি শুক্রবার (১০ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটির মেয়াদ না বাড়ানোর ফলে শনিবার (আজ) থেকে তিনি অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হবেন। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যিনি কর্মে প্রবীণ তিনিই অনুরূপ কার্যভার পালন করবেন।


সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে গত ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাসের ছুটি নেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এস কে সিনহা ছুটি নেয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। পরে প্রধান বিচারপতি সিনহা ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করতে চান- বিষয়টি উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান।


১২ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে বা তার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা।


বিদেশে যাওয়ার সময় এক বিবৃতিতে এসকে সিনহা নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ দাবি করে বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস। ’ 


তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করলে এটি সহজেই অনুমেয় যে, সরকার উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করছে এবং এর দ্বারা বিচার বিভাগ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি হবে। এটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। ’


উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এসকে সিনহা। তার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।  

 


Top