দিল্লি দূষণের প্রধান কারণ কি শস্যক্ষেতে আগুন? | daily-sun.com

দিল্লি দূষণের প্রধান কারণ কি শস্যক্ষেতে আগুন?

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪২ টাprinter

দিল্লি দূষণের প্রধান কারণ কি শস্যক্ষেতে আগুন?

শীতকাল শুরুর ঠিক মুখের এই সময়টায় প্রতিবছর একরের পর একর শস্যক্ষেত পুড়িয়ে দেয় পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষকরা। সেই ঘন কালো ধোঁয়া দিল্লিতে ঢুকে ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ।

কিন্তু কেন এই সময় আগুনে ক্ষেত জ্বালিয়ে দেন কৃষকরা? পাঞ্জাব, হরিয়ানার এই ক্ষেত জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রথার দিকে এতদিন সেভাবে কারোর নজর পড়েনি। কিন্তু দিল্লির দূষণ নিয়ে হইচই শুরু হতেই তার কারণ অনুসন্ধানে চোখ পড়েছে এই ক্ষেত পোড়নোর দিকে। দিল্লির নিজস্ব অতিরিক্ত গাড়ির দূষণের সঙ্গে এই কালো ধোঁয়া যোগ হয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। দিল্লি সমুদ্র থেকে অনেক দূরে হওয়ায় কোনো জোরালো হাওয়া এই টক্সিক বাতাসকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না।

 

১৯৮০র প্রথম দিক থেকে যন্ত্রের সাহায্যে ক্ষেত থেকে শস্য কাটার কাজ চালু হয় পাঞ্জাব ও হরিয়ানায়। সেই থেকে সমস্যার সূত্রপাত। মেশিনে ধানগাছের শুধু ওপরের অংশটা কেটে নেওয়া হয়। নিচের শুকনো খড় পড়ে থাকে। গমের খড় পশুখাদ্যে ব্যবহার হলেও ধানের খড়ে সিলিকার পরিমাণ বেশি থাকায় তা আর কোনো কাজে লাগে না।

 

একমাত্র বাসমতী ধানের খড়ে সিলিকার পরিমাণ কম হওয়ায় তা ফের ব্যবহৃত হয়। ছয় থেকে আট ইঞ্চি লম্বা এই ধানগাছ মাঠেই থাকে। ধান তুলে নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষেতে গমের চারা রোপণ করতে হয়। সময়, টাকা ও পরিশ্রম বাঁচাতে একরের পর একর ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন কৃষকরা।

 

 

 

এভাবে গমচাষের জন্য ক্ষেত প্রস্তুত হয়ে গেলেও ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি হয়। এর মোকাবিলায় গত কয়ের বছর ধরে কৃষকদের মোটা টাকা জরিমানা করছে সরকার। তাতে এ বছর কিছুটা কমেছে ক্ষেত পুড়নোর কাজ। পুরো গোড়া থেকে ধানগাছ কেটে দেবে, এমন মেশিন এই অঞ্চলের কৃষকদের কেনার জন্য প্রচার চালানোও হচ্ছে। কিন্তু চড়া দামের সেই মেশিন কেনার সাধ্য অনেকেরই নেই। এ জন্য সরকারের তরফে ঋণও দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা বেশি পরিমাণে এই মেশিন কিনলেই দাম কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

 


Top