সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিনের মৃত্যু: সরকারি বাহিনীর গুলিতেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্থ হয় | daily-sun.com

সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিনের মৃত্যু: সরকারি বাহিনীর গুলিতেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্থ হয়

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ১৩:৪৯ টাprinter

সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিনের মৃত্যু: সরকারি বাহিনীর গুলিতেই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্থ হয়

-নিহত সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিন

সৌদির সরকারি বাহিনীর গুলিতেই হেলিকপ্টার বিধ্বস্থ হয়ে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে মারা যান সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিন ও ৭ সরকারি কর্মকর্তা। সংবাদমাধ্যম নিউ খালিজের উদ্ধৃতি দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর এসব তথ্য জানিয়েছে।


খবরে বলা হয়, সৌদি রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিনকে বহন করা হেলিকপ্টারটি যান্ত্রিক কোন ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়নি। বরং মনসুর বিন মুকরিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৌদির সরকারি বাহিনীই গুলি করে ভূপাতিত করে হেলিকপ্টারটি।


খবরে আরও বলা হয়, রাজপুত্র মনসুর বিন মুকরিন সৌদি সিংহাসনে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের উত্তরাধিকারের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন। সম্প্রতি সৌদির ১০০০ রাজপুত্রকে চিঠি লিখেন মনসুর বিন মুকরিন। যাতে সিংহাসন থেকে মোহাম্মদ বিন সালমানকে (সৌদি বাদশাহ সালমানের ছেলে) দূরে রাখার বিষয়ে তিনি সবার সহযোগিতাও চেয়েছিলেন। যার খেসারত জীবন দিয়েই দিতে হয়েছে তাকে। 


এদিকে আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের অংশ হিসেবে গত শনিবার থেকে সৌদি যুবরাজ সালমান বিন আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি-দমন কমিশনের অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। সৌদি কতৃপক্ষ স্বীকার করেছে ৫ শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, এ সংখ্যা দ্বিগুনের চেয়েও বেশি।

 


শুধু তাই নয়, আটকদের ওপর চালানো হচ্ছে নিষ্ঠুর নির্যাতন। তবে মুখে আঘাত করা হচ্ছে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বের করতেই এ নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। তাদের কয়েকজনকে হাসপাতালেও নেয়া হয়েছে।


এছাড়া সৌদি আরবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ দিয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ২০৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেখান থেকে ৭ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। বাকি ২০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। 
 

এ অভিযানে সৌদি আরবে ওয়ারেন বাফেট খ্যাত হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক প্রিন্স আল ওয়ালেদ বিন তালালসহ রাজ পরিবারের একাধিক সদস্য ও সাবেক-বর্তমান ৩৮ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেফতারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত (ফ্রিজ) করা হচ্ছে।


এদিক এর মধ্যেই দেশটির দুই প্রিন্স নিহত হন। এর মধ্যে গত ৬ নভেম্বর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের আসির প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স মনসুর বিন মুকরিন তার কয়েকজন সহকর্মীসহ নিহত হন। মনসুর বিন মুকরিনের নিহতে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাবেক বাদশা ফাহাদের বড় সন্তান আবদুল আজিজ বিন ফাহাদ নিহত হন। তার মৃত্যুর কারণও এখনও জানা যায়নি। তবে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আবদুল আজিজ বিন ফাহাদ পবিত্র আল আকসা মসজিদ ও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।


২০১৫ সালে রাজা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুলাজিজ মারা যাওয়ার পর তার সৎভাই সালমান ক্ষমতায় আসেন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৮১ বছর বয়সী এ রাজার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ক্রাউন প্রিন্স তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফকেও গ্রেফতার করেছেন। সম্পদ জব্দ করেছেন। সাবেক বাদশাহ আব্দুলাজিজের সন্তানদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের সম্পদও জব্দ করা হয়েছে।


অনেকেই বলছেন, বাবা সালমানের আসনে বসার আগে ঘরে বাইরের সব শত্রুকে বিনাশ করতেই ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এ ধরপাকড় চালাচ্ছেন।

 


Top