ফেনীতে খালেদার গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ৫ | daily-sun.com

ফেনীতে খালেদার গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ৫

ডেইলি সান অনলাইন     ২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৮:১১ টাprinter

ফেনীতে খালেদার গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ৫

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে উখিয়া যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলার মুখে পড়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম পেরিয়ে ফেনীর মহিপালে এ হামলা হয়।

হামলায় দুই সাংবাদিক আহত হয়। এছাড়া একাত্তর টিভির ক্যামেরাসহ বহরের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।


আক্রান্ত সংবাদকর্মী ও বিএনপি নেতারা জানান, বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িসহ বহরের ৩০টির মতো গাড়ি মহিপাল বাজার অতিক্রমের পরপরই দুর্বৃত্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে উঠে আসে। এসময় তারা হামলা চালিয়ে একাত্তর, ডিবিসি, চ্যানেল আই ও বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের তিনটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  


আহত সাংবাদিকরা হলেন, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শফিক আহমেদ ও বৈশাখী টিভির সিনিয়র রিপোর্টার গোলাম মোর্শেদ এবং ডিবিসি’র ক্যামেরাপারসনসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন। হামলার সময় অন্যান্য গণমাধ্যমের গাড়িগুলো চলে আসায় তারা সটকে পড়ে।

 


এরপরে ফেনীতে যাত্রা বিরতি করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিকেল পাঁচটা সাত মিনিটে তিনি সার্কিট হাউজে পৌঁছান।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন শেষে রবিবার সকালে উখিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন খালেদা জিয়া। সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত খালেদা জিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দিবেন।  


এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর রওনা হয়। সফর শুরুর আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, আইজিপি বিএনপি চেয়ারপারসনের সফরের সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আশা করছি, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না।


এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কক্সবাজার গিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে তাদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন।

 


উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের ঘোষণা দিয়ে আগে থেকেই রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো অবরুদ্ধ করে রাখে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পরে প্রবেশের চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। ওইদিনের পর থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। সেনা অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র হিসাবে, সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 


গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের ঘটনায় পালিয়ে আসে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এভাবে কয়েক দশক ধরে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা শরণার্থী সংকট হচ্ছে রোহিঙ্গারা। সংস্থাটি মিয়ানমার সেনা বাহিনীর এই নির্মমতাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছে।


তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ান, জর্ডানের রানী রানিয়া আল আব্দুল্লাহ, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।

 


Top