রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের জন্য ‘শিশু পল্লী’ হচ্ছে | daily-sun.com

রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের জন্য ‘শিশু পল্লী’ হচ্ছে

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৯:৫৫ টাprinter

রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের জন্য ‘শিশু পল্লী’ হচ্ছে

 

এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সুরক্ষার জন্য ‘শিশু পল্লী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি হবে এ সকল শিশুদের জন্য আবাসস্থল। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে উখিয়ার নিবন্ধিত কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধুছড়া এলাকায় ২শ একর জমিও নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাথ রোহিঙ্গা শিশুদের শনাক্ত করার কার্যক্রম শেষ হলে আগামী মাসে শিশু পল্লীর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এদিকে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত গত ২৭ দিনে ১৫ হাজার ৭৯৯ জন রোহিঙ্গা এতিম শিশুকে শনাক্ত করা হয়েছে। ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’কার্যক্রমের মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।


সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (কার্যক্রম) ও ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’প্রকল্পের সমন্বয়কারী সৈয়দা ফেরদৌস আক্তার বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব তথ্য জানান।


তিনি বলেন, ‘আমরা ভাবছি এ মাসের মধ্যে এতিম রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করার কাজ শেষ করতে পারবে। আগামী মাসে শিশু পল্লী নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’


সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৮০ জন কর্মী ক্যাম্পগুলোতে গিয়ে খুঁজে খুঁজে অনাথ শিশু শনাক্তকরণের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে শিশুর অভিভাবক ও মাঝিদের মাধ্যমে সঠিক তথ্য-উপাত্ত নিয়ে শনাক্তকরণের কাজটি করছেন। যারা বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে, যারা শুধু বাবা হারিয়েছে, যারা প্রতিবন্ধী, আর যারা মা-বাবার খোঁজ পাচ্ছে না, এমন চারটি শ্রেণিতে এদের ভাগ করা হচ্ছে।


শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সীদের শিশু হিসেবে গণনা করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।


জানালেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রীতম কুমার চৌধুরী বলছেন, ‘ইতোমধ্যে টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে শনাক্তকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে বড় দুইটি ক্যাম্প-কুতুপালং এবং বালুখালীতে। শনাক্ত হওয়া সকল এতিম শিশুকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে পক্ষ থেকে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে।’


তিনি জানিয়েছেন, এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তাদের সুরক্ষার জন্য শিশু পল্লী গড়ে তোলা হবে।


উল্লেখ্য, চলতি বছর ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতায় খুন হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা দম্পতি। তাদের বেঁচে যাওয়া সন্তানরা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এসব পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি বিশেষ সুরক্ষা অঞ্চল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই বিশেষ অঞ্চলে বিশেষ যত্নে দেখভাল করা হবে এসব শিশুদের।

- সূত্র: বাসস

 


Top