সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছিল রাউধা | daily-sun.com

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছিল রাউধা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:২৯ টাprinter

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় আত্মহত্যা করেছিল রাউধা

রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করতে আসা মালদ্বীপ কন্যা রাউধা আতিফ আত্মহত্যা করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হক সোমবার সন্ধ্যায় আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

 

 

এর আগে দু’দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এই মডেল কন্যা আত্মহত্যা করেছিলেন।

রাজশাহী মহানগর জজ আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোমবার সন্ধ্যায় তাদের কাছে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।  চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। রাউধাকে হত্যা করা হয়েছিল, এমনটিও বলা হয়নি।

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক জানান, দুই দফার ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও মুঠোফোন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন। এরপরই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এবং প্রতিবেদন দাখিলের আগে বিষয়টি রাউধার বাবাকেও অবহিত করা হয়েছে।

 

 

তিনি জানান, প্রেমে ব্যর্থ হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন। মালদ্বীপের শাহী গণি নামে যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই যুবক পড়াশোনার জন্য লন্ডনে থাকেন। রাউধার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে জানা গেছে, শাহীর সঙ্গে রাউধার সম্পর্ক ভেঙে যায়। এ নিয়ে প্রচণ্ড রকমের মানসিক চাপে ছিলেন রাউধা। আত্মহত্যার আগের রাতেও শাহীর সঙ্গে রাউধার কথা হয়েছিল।

রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ এখনও দাবি করছেন তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

 

প্রেমে ব্যর্থ হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেন!

 

 মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন। কনকলতা নামে রাজশাহীর এক নারীকে তিনি বিয়েও করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে রাউধা আতিফের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

 

মালদ্বীপের নীলনয়না মেয়ে রাউধা বাংলাদেশে এসেছিলেন পড়তে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মডেলিংও করতেন। রাউধার মৃত্যুর দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ শাহমখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে।

 

 

 

 

নীল নয়না রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে গত ১০ এপ্রিল রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী ভারতের কাশ্মিরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদ (২১)কে একমাত্র আসামি করা হয়। কিন্তু সিরাতকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

 

 

গত ১৪ এপ্রিল হত্যা মামলাটি শাহমখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তাস্তর করা হয়। এরপর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বারের মতো রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সে প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

 

 


Top