হত্যাকাণ্ডের একমাস পর পরিবার ফিরে পেল জীবন্ত কিশোরকে! | daily-sun.com

হত্যাকাণ্ডের একমাস পর পরিবার ফিরে পেল জীবন্ত কিশোরকে!

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ১৪:৪০ টাprinter

হত্যাকাণ্ডের একমাস পর পরিবার ফিরে পেল জীবন্ত কিশোরকে!

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র জাসিমুল হক (১৩)। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন খোরশেদ আলম (৩৮) নামের এক শিক্ষক। খোরশেদ আলম চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার এলাকার আমীন সেন্টার এবাদত খানার ইমাম ও চট্টগ্রামের তালিমুল কোরআন একাডেমির শিক্ষক।

 

যৌন নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে ওই দিনই শিশুটিকে হত্যা করেন খোরশেদ। পরে তিনি লাশটি বস্তাবন্দী করে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর হত্যার দায় স্বীকার করে খোরশেদ কিশোরগঞ্জের আদালতে ওই জবানবন্দি দেন।

 

এরপর থেকে জাসিমুলের লাশের খোঁজ করে আসছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। দুই সপ্তাহ পর গতকাল রোববার জাসিমুল জীবিত  ফিরে এসেছে। জীবিত ফিরে পেয়ে শিশুটি র পরিবারে আনন্দের শেষ নেই। জাসিমুলকে গতকাল রোববার পুলিশ উদ্ধারের পর বিকেলে তাকে কিশোরগঞ্জের আদালতে হাজির করে। জাসিমুল আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে জাসিমুল বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। জাসিমুল জানায়, সে একপর্যায়ে চট্টগ্রামে চলে যায়। চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে সাকিব নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সাকিব তাকে খোরশেদের কাছে নিয়ে যায়।

 

খোরশেদ তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চেয়েছিল। রাজি না হওয়ায় খোরশেদ তার গলা চেপে ধরেন। এরপর আর তার কিছু মনে পড়ছে না। পরে জাসিমুল দেখতে পায়, সে একটি ক্যাম্পে রয়েছে। সে জানতে পারে, এটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। পরিবারের কারও ফোন নম্বর মুখস্থ না থাকায় সে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।  কয়েক দিন আগে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি জাসিমুলের ছবি পাঠায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে জাসিমুলকে শনাক্ত করে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর জাসিমুলের বড় ভাই নাইমুল ইসলামের কাছে এক ব্যক্তি ফোন করে জাসিমুলকে অপহরণের কথা জানিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পুলিশ ওই ফোনের সূত্র ধরে ২৮ সেপ্টেম্বর সাকিবকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। সাকিব যাত্রাবাড়ীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। সাকিব ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এতে সাকিব জানিয়েছিল, খোরশেদ তার পূর্বপরিচিত। খোরশেদ ছেলে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন। সাকিব খোরশেদের যৌন লালসা মেটানোর জন্য শিশুদের জোগাড় করার কাজ করত। সেই সূত্র ধরেই পরে খোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

 

সুত্রঃ প্রথম আলো 

 


Top