আমরা কিছুটা হলেও আশাবাদী: ফখরুল | daily-sun.com

আমরা কিছুটা হলেও আশাবাদী: ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:২৩ টাprinter

আমরা কিছুটা হলেও আশাবাদী: ফখরুল

 

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে ‘কিছুটা হলেও আশাবাদী’র কথা জানালেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (১৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ব্যাপী সংলাপ শেষে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।  


তিনি আরও জানান, বিএনপি ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপির প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারা আলোচনার কথা বলেছেন।


এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা কিছুটা হলেও আশাবাদী। তারা সুন্দর নির্বাচন করার চেষ্টা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।


ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেছেন, দেশে বর্তমানে সে অবস্থা নেই যেই অবস্থায় তারা তাদের দায়িত্ব পুরো পালন করতে পারেন।


তিনি আরও বলেন, ইসি যে সংলাপ শুরু করেছে তা যেন নিছক লোক দেখানো না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি জানান, আরপিও সংশোধনসহ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাবও ইসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে।


এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে যেসব সুপারিশ করেছেন তার কয়েকটি হলো:


১.নির্বাচনে কোনো ইভিএম/ভিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।  


২.মৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। প্রবাসী ও কারাগারে বন্দীদের ভোটার তালিকায় অন্তভূক্ত করতে হবে।  


৩.ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা এজেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের সরবরাহ করতে হবে।  


৪.সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে তা করতে হবে।  


৫.নির্বাচনের সময়ে অধিক সংখ্যক বিদেশী পর্যবেক্ষকদের এদেশে আসাকে উৎসাহিত করতে হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন বাধা দূরে পদক্ষেপ নিতে হবে। 


৬.এখন থেকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চালু করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। 


৭.ব্যালট পেপারে জলছাপ থাকতে হবে।


৮.সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসরকারি ফল প্রকাশ করতে হবে।

 
৯. রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। 

 
১০. নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে একক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না। 

 
১১. বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে। 


১২.বন্ধ গণমাধ্যমগুলো চালু করতে হবে। 


১৩. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। 


১৪.মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নেটওয়ার্ক সচল রাখতে হবে। 


১৫. সিসি ক্যামেরা (ক্লোজ সার্কিট) স্থাপন করতে হবে।


এর আগে বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসে ইসি। সংলাপে বিএনপি ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের তালিকা দিলেও উপস্থিত হয়েছেন ১৬ জন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যাঁরা অংশ নিয়েছেন তাঁরা হলন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএসএম আব্দুল হালিম, মো. ইসমাইল জবি উল্লাহ, আব্দুর রশীদ সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।  সংলাপে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।


প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রকাশের পর ৩০ জুলাই প্রথম ধাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃতীয় ধাপে ২৪ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। আগামী ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসি সংলাপ করবে।


এছাড়া আগামীকাল সোমবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বেলা ৩টায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় পার্টি (জেপি) ও বিকেল ৩টায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।


অপরদিকে, ২২ অক্টোবর বেলা ১১টা অরাজনৈতিক সংগঠন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর বেলা ১১টায় নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি।

 


Top