দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত: অ্যাটর্নি জেনারেল | daily-sun.com

দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত: অ্যাটর্নি জেনারেল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১২:০৫ টাprinter

দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত: অ্যাটর্নি জেনারেল

 

ছুটি শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এমন মন্তব্য করেন।  


তিনি বলেন, ‘অন্য বিচারপতিরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে না চাইলে বিচার বিভাগে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। বাস্তব অবস্থা বিচার করলে প্রধান বিচারপতির দেশে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত।’


বিদেশে অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনসহ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি গুরুতর অভিযোগ দালিলিক তথ্যাদিসহ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক হস্তান্তর সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতির পর এমন মন্তব্য করলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।


প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ উঠায় তাঁর শপথ ভঙ্গ হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখনই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এবং সেই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তখনই তাঁর শপথ ভঙ্গ হয়ে যায়।


এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজন আছে কি, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে কনসেপ্ট সেটাতো আমরা মেনে নেইনি। রাষ্ট্র বা সরকার বা আমাদের অফিস এটাকে মেনে নেয়নি। এজন্যই আমরা রিভিউ’র প্রস্তুতি নিচ্ছি।


তিনি বলেন, ওনার (প্রধান বিচারপতির) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে তা যদি সত্য না হতো, তাহলে দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এসব কথা বলা সম্ভব হতো?


ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। সস্ত্রীক যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একাই তিনি অস্ট্রেলিয়া যান। অস্ট্রেলিয়া রওনার পথে হেয়ার রোডের বাসভবনের সামনে প্রধান বিচারপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসুস্থ না। আমি পালিয়ে যাচ্ছি না। বিচার বিভাগের স্বার্থে আমি স্বেচ্ছায় বিদেশ যাচ্ছি। আবার ফিরে আসব। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে।’


প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়ার পর থেকে বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়, যা পর্যায়ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে আসে।


উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত।


নয়জন আইনজীবীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ৫ মে সংবিধানের ওই সংশোধনী 'অবৈধ' ঘোষণা করে রায় দেন। গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগও ওই রায় বহাল রাখেন। যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ পায় ১ আগস্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণের এক স্থানে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'মানবাধিকার ঝুঁকিতে, দুর্নীতি অনিয়ন্ত্রিত, সংসদ অকার্যকর, কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।' ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ে সরকার, সংসদ, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, সামরিক শাসন এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে এমন অনেক পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।


এরপরই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেয়া পর্যবেক্ষণের তীব্র সমালোচনা করেন সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা। এমনকি কোনো কোনো মন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। পাশাপাশি রায়ে প্রধান বিচারপতির দেয়া পর্যবেক্ষণও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানান। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বেশ কিছুদিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করে আসছেন।


এরই মধ্যে গত ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। এই ছুটি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত, নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য তিনি একমাসের ছুটি চেয়েছেন। ওই সময় প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবাদিকদের দেখান আইনমন্ত্রী। এতে লেখা ছিল, ‘আমি ইতিপূর্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি শারীরিক জটিলতায় ভুগছি।’


যদিও বিষয়টি ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করে সরকারি চাপে প্রধান বিচারপতি দীর্ঘ ছুটিতে গেছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাদের আরও অভিযোগ, বিচারপতিদের অভিশংসন সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করায় প্রধান বিচারপতিকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে।


২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা।

 


Top