রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়: মিয়ানমার সেনাপ্রধান | daily-sun.com

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়: মিয়ানমার সেনাপ্রধান

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:০৬ টাprinter

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়: মিয়ানমার সেনাপ্রধান

 

রোহিঙ্গাদের ঐতিহাসিকভাবে ‘বাঙালি’ বলে মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়। উপনিবেশ কালে ব্রিটিশ শাসকরা প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে তাদের নিয়ে এসেছে। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে আজ বুধবার (১১ অক্টোবর) এক বৈঠকে বসে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। এরপর সেই আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে পোস্ট দেন মিন। তা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করে।


ওই পোস্টে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য পরিবেশনেরও অভিযোগ তুলেছেন। 


এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং বলেছিলেন, রোহিঙ্গারা স্বীকৃতি দাবি করছে অথচ তারা কখনো মিয়ানমারের নৃগোষ্ঠী ছিল না। এটি ‘বাঙালি’ ইস্যু। আর এই সত্য প্রতিষ্ঠায় একতাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।


যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, ‘তারা কোনোভাবেই মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। নথিপত্র প্রমাণ করে, তারা কখনো রোহিঙ্গা নামেও পরিচিত ছিল না। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই তারা বাঙালি ছিল। মিয়ানমার তাদের এ দেশে নিয়ে আসেনি। ঔপনিবেশিক আমলেই তারা এসেছিল।’


এ বছরের ২৫ আগস্টের পর নতুন করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া বুধবার (১১ অক্টোবর) সংস্থাটির মানবাধিকার দফতরের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান জ্যোতি সাংঘেরা রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানান।


জ্যোতি সাংঘেরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমারে ফিরলে রোহিঙ্গারা বন্দিদশায় পড়তে পারেন। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রামগুলো যদি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় এবং তাদের জীবিকার সম্ভাবনা নষ্ট করা হয়, তা হলে আমাদের ভয় হয় যে, তাদের বন্দি করা বা ক্যাম্পে আটকানো হতে পারে।


এদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাড়া খেয়ে গেল মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬৫ রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ পোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার আগে থেকেই সেখানে ‘তাড়ানোর অভিযান’ শুরু হয়। এ সময় হত্যা, নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানো হয়।


জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার যাইদ বিন রাআদ আল হুসেইন এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে কাজ করেছে, তা ফেরার সম্ভাবনা না রেখে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোর করে স্থানান্তরের কৌশল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।


মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোহিঙ্গাদের সম্পদ ধ্বংস, তাদের বসতবাড়ি এবং উত্তর রাখাইনের সব গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।


‘এটি শুধু তাদের তাড়ানোর জন্য নয়, পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে তাদের বাড়িতে ফিরতে না পারে সে জন্য এটি করা হয়,’ বলা হয়েছে এতে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, সশস্ত্র রাখাইন বৌদ্ধদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি, জমি, সংরক্ষিত খাবার, শস্য ও প্রাণিসম্পদের যে ক্ষতি করেছে, তাতে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে পড়েছে।


এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরা ঠেকাতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত বরাবর মাইন পুঁতেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


১৮২৪ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার শাসন করে ব্রিটিশরা। অ্যাংলো-বার্মিজ যুদ্ধের পর ভারতে বার্মা নামে একটি প্রদেশ তৈরি করে ব্রিটিশরা। ভারত থেকেই সেখানে শাসনকার্য চালাতো তারা। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে মিয়ানমার। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, উপনিবেশের অনেক আগেই মুসলিমরা রাখাইন রাজ্যে বসবাস শুরু করে। ব্রিটিশ শাসনামলে এই সংখ্যাই শুধু বৃদ্ধি পেয়েছিলো।

 


Top