‘রোহিঙ্গা ফেরতের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল’ | daily-sun.com

‘রোহিঙ্গা ফেরতের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল’

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ১৫:১৮ টাprinter

‘রোহিঙ্গা ফেরতের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল’

 

নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যে প্রস্তাব মিয়ানমার দিয়েছে সেটা তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি কৌশল বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে কালক্ষেপণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট, বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের মধ্য বিভাজন হচ্ছে। সু চি এক কথা বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রচার আর এক কথা বলে। এ সংকট মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে। এখন এটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে যাচ্ছে। ১৯৮২ সালে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার নিজেরা যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাবাসনের কথা বলছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের যে নীতি নেওয়া হয়েছিল সেটাকে অনুসরণ করতে চাইছে। বাংলাদেশ সরকার এইবারের পরিস্থিতির মাত্রা ও ভিন্নতার বিষয়ে মিয়ানমারকে জানিয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে একটা খসড়া প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে।


বাংলাদেশ চায়, এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) যুক্ত থাকুক—এমনটা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চায়, আন্তর্জাতিক চাপটা অব্যাহত থাকুক। ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের নিস্পৃহ মনে হয়েছে। তারা বাংলাদেশ সফর করেছে তবে কখনোই আলোচনা এগোয়নি। এমনকি আজকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, সেখানকার গণমাধ্যমে এখনো রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গল টেররিস্ট’ বলা হচ্ছে।


১৬ তারিখে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে—এমনটা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে মিয়ানমার কী করছে, সেটা দেখেই বোঝা যাবে মিয়ানমার সত্যিই প্রত্যাবাসনে আগ্রহী কি না। বাংলাদেশ কী করেনি? বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনাও করেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছে। এর আগে একবারই জাতিসংঘের মহাসচিব লেবাননের সমস্যা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিল। আর এবার রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে চিঠি দিল। এই নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে মোট চারটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলো।


আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যে সমস্যা, সেই সমস্যার দুটি দিক। একটি হলো তাদের জাতীয়তা, আরেকটি হলো প্রত্যাবাসন। দুটি সমস্যার সমাধানই মিয়ানমারের হাতে।

 


Top