‘রোহিঙ্গা নারীদের উপর চালানো গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ’ | daily-sun.com

‘রোহিঙ্গা নারীদের উপর চালানো গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ’

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:০২ টাprinter

‘রোহিঙ্গা নারীদের উপর চালানো গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ’

কেবল গণহত্যাই নয়, সন্তানের সামনে মাকে; মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণের মতো করুণ ও ঘৃণ্য কাজ করেছে মিয়ানমার সেনাদল। কক্সবাজারের মেডিকেল ক্যাম্পে এমনও অনেক নারী এসেছেন যারা এই পাশবিকতার শিকার হয়ে অসুস্থ, তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

কক্সবাজারে জাতিসংঘের হয়ে কাজ করা চিকিৎসক তাসনুভা নওরীন বলেন, নারীদের জবরদস্ত করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এমন অনেক নারীর শরীরেই আঘাতের বহু চিহ্ন পাওয়া গেছে।

 

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে রীতিমতো ভিন্ন সুর দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জ হাতয়ের ভাষায়। দিয়েছেন এ বিষয়ক গৎবাঁধা উত্তর। তিনি বলেন, নারীরা যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তারা আমাদের কাছে আসতে পারেন। আমরা তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেবো। পাশাপাশি অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।

 

কক্সবাজারের একটি ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহনকারী মালা নামের এক রোহিঙ্গা নারী বলেন তার সন্তানদের সামনেই তাকে গণধর্ষণ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। শুধু সেনারাই নয়, এই তালিকায় আছে স্থানীয় মগরাও।

 

মালা তার ছদ্মনাম। তার মতো কাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর প্রত্যেক ছাউনি ছাউনিতে। কক্সবাজারে জাতিসংঘের মেডিকেল টিম রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, গণধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে। একবার নয়, একাধিকবারও অনেকে এই পাশবিকতার শিকার।

 

তবে অনেকেই ক্যাম্পে এসে লজ্জা-সংকোচবোধে তাদের ওপর চরম অমানবিক নির্যাতনের কথা লুকিয়ে রাখছেন বলে জানান তিনি। এতে ঠিক কত নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছেন তার সঠিক তথ্য নেই কারো কাছে। শিশুরা যেমন সহিংসতা দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ঠিক তেমনি নারীরা সহিংসতার পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অভিজ্ঞতার শিকার হয়ে আরও বেশি ভেঙে পড়েছেন। তাদের জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন; মানসিক ও শারীরিক দুভাবেই।

 

সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

 

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি (যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ক) প্রমিলা প্যাটেন বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে নারীদের ওপর যা হয়েছে তা গুরুতর উদ্বেগের।


Top