হেফাজতের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও মিছিলে পুলিশের বাধা | daily-sun.com

হেফাজতের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও মিছিলে পুলিশের বাধা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:০৪ টাprinter

হেফাজতের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও মিছিলে পুলিশের বাধা

 

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের নিপীড়ক রাষ্ট্র মিয়ানমারের ঢাকার দূতাবাস ঘেরাওয়ে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে এলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে পুলিশ সংগঠনটির ১০ সদস্যকে দূতাবাসে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।


হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোসেন কাসেমির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আছেন- মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা আতাউল্লা প্রমুখ।


এর আগে দুপুর সোয়া ১২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তরগেট থেকে মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে যাত্রা শুরু করে হেফাজতে ইসলাম। তার আগে বেলা ১১টা থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরগেটে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যার প্রতিবাদে মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি উপলক্ষে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোসেন কাসেমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন- হেফাজতেরর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক, ঢাকা মহানগর নেতা মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, মাওলানা হামিদুল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা মজিবুর রহমান, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আহমদুল্লাহ কাশেমি, মাওলানা শেখ গোলাম আজগর প্রমুখ।


সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি দেখে যান আরাকান স্বাধীন করার জন্য লাখ লাখ মুসলমান প্রস্তুত রয়েছে। আর কোনো রোহিঙ্গার জীবন হুমকির মুখে পড়তে দেয়া হবে না। অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। আমরা আরাকানে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। অস্ত্র দিন নইলে কূটনীতিক পদ্ধতিতে মিয়ানমারকে নির্যাতন বন্ধে বাধ্য করুন।


তাঁরা আরও বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে মিয়ানমারে সামরিক জান্তাদের হাতে অনেক মুসলমানের রক্ত ঝরেছে। অনেক নির্যাতন চলেছে। এত দিনের নির্যাতন নিপীড়ন আর সহ্য করা হবে না। এখন সময় এসেছে প্রতিবাদের। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মুফতি, ওলামা মাশায়েখ ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জিহাদ ফরজ হয়ে গেছে।


প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দশকে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের নির্যাতন বেড়ে গেছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর থেকে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযানের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তিন হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। আর নির্যাতনের মুখে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।


জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত গণহত্যা’ চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে রাখাইনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তিত্ব রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে রাখাইনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। 


ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রস্তাব করেছে। মিয়ানমারকে অবিলম্বে সেনা অভিযান স্থগিত ও রোহিঙ্গাদের প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার ওই আহ্বানের পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অতিরিক্ত সহিংসতার খবরে উদ্বেগ জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়।


এছাড়া মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ ও দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

 


Top