‘এটিই শেষ সুযোগ, নইলে পরিস্থিতি কী হবে দুর্ভাগ্যক্রমে তা আমি বলতে পারছি না’ | daily-sun.com

‘এটিই শেষ সুযোগ, নইলে পরিস্থিতি কী হবে দুর্ভাগ্যক্রমে তা আমি বলতে পারছি না’

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:২৬ টাprinter

‘এটিই শেষ সুযোগ, নইলে পরিস্থিতি কী হবে দুর্ভাগ্যক্রমে তা আমি বলতে পারছি না’

- জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ও দমন পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা অভিযান বন্ধে এটিই হবে শেষ সুযোগ। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ঠিক আগে বিবিসির হার্ডটক প্রোগামকে তিনি বলেন, মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা অভিযান বন্ধের শেষ সুযোগ পাবেন সু চি। তা না হলে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ংকর হবে।


গুতেরেস বলেন, ‘তিনি (সু চি) এখনই যদি এই পরিস্থিতির অবসান না ঘটান তাহলে আমি মনে করব, এই ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং পরবর্তীতে এই অবস্থার অবসান কিভাবে হবে দুর্ভাগ্যক্রমে তা আমি বলতে পারছি না।’


রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


প্রসঙ্গত, মিয়ানমার এই সেনা অভিযানের মাধ্যমে একটি জাতিকে নির্মূল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছে জাতিসংঘ। তবে মিয়ানমারের দাবি, তারা ‘সন্ত্রাসী’দের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে, বেসামরিক লোকদের ওপর নয়। গত ২৪ আগস্ট দেশটির রাখাইন রাজ্যের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১২ নিরাপত্তা সদস্য নিহত হলে বর্বর এই অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চি। চলমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


সু চি বলছেন, ব্যাপক মিথ্যা তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করা হচ্ছে। ‘সন্ত্রাসী’দের স্বার্থে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, আর কোনো রোহিঙ্গা ঢুকতে দেওয়া হবে না শনিবার বাংলাদেশের এমন ঘোষণার পরই জাতিসংঘ মহাসচিব এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে।


বাংলাদেশ পুলিশ বলেছে, ক্যাম্প ছাড়া রোহিঙ্গাদের আর কোথাও চলাফেরা করতে দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো পরিবার কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গেও বাস করতে দেওয়া হবে না। সেইসঙ্গে যানবাহন সংশ্লিষ্টদের রোহিঙ্গাদের বহন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের বাড়ি ভাড়া না দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

 


Top