আঙ্গুল বিহীন পরিবারের গল্প গাঁথা! | daily-sun.com

আঙ্গুল বিহীন পরিবারের গল্প গাঁথা!

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৪১ টাprinter

আঙ্গুল বিহীন পরিবারের গল্প গাঁথা!

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের আড়পাড়ার ঘিঞ্জি পল্লীতে ওদের বসবাস। মাথা গোঁজার জন্য নিজস্ব কোনো জমি নেই।

সরকারী খাস জমিতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন আঙুলবিহীন খোয়াজ উদ্দীন।

 

প্রতিবেদক যখন ওই পল্লীতে যান তখন জানতে পারেন, মেয়ে সাবিনা খাতুন প্রচণ্ড গরমে ফ্যানের বাতাস খেতে গেছে পাশের বাড়িতে। কারণ ঘরে তাদের বিদ্যুতও নেই।

দারিদ্রের সব চিহ্নই যেন লেগে আছে দিনমজুর খোয়াজ উদ্দীনের বাড়িতে। ওই পরিবারে কেবল স্ত্রী রিজিয়াই সুস্থ সবল। কিন্তু স্বামী খোয়াজ ও তার দুই সন্তানের হাত-পায়ে কোন আঙুল নেই।

 

আঙুল বিহীন অবস্থায় ইন্টারমিডিয়েট পড়ছেন তার মেয়ে সাবিনা খাতুন। আর ছেলে মাসুদ হোসেন মুসা অভাবের সংসারে পিতাকে সাহায্য করতে কালীগঞ্জ শহরের ফারুক লাইব্রেরীতে কাজ করেন। গৃহকর্তা খোয়াজ উদ্দীনও শ্রমিকের কাজ করেন খুব কষ্ট করে।

 

পরের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সংসারের হাল ধরেছেন স্ত্রী রিজিয়া।

তাদের পরিবারের একটি গ্রুপ ছবি তোলার জন্য আড়পাড়ার দরগা পল্লীতে যাওয়া। কিন্তু কলেজছাত্রী সাবিনা কিছুটা অভিমানের সুরে জানালেন এ যাবত বহু ছবি তুলেছি। কোনো সাহায্য সহায়তা আসে না। কেও একটা চাকরিও দেয় না। তাই আর ছবি দিতে পারবো না। এখানে আমি যে গ্রুপ ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটা সাত বছর আগের ফাইল ছবি।  

 

সাবিনা ও তার পিতা খোয়াজ উদ্দীন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। পান না কেবল ছেলে মাসুদ। মাসুদের বয়স এবার আঠারো বছর চলেছে। প্রতিবন্ধী ভাতার সামান্য টাকায় পরিবারটির সংসার চলে না। আঙুল বিহীন ওই পরিবারের একটি সরকারী চাকরী খুব বেশি প্রয়োজন।

 

তারা বলছিলেন, প্রতিবন্ধী কোটায় কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তাদের একটি চাকরি দিতে পারলে খুবই উপকার হত। সাবিনা খাতুন মেট্রিক ও ছেলে মাসুদ অষ্টম শ্রেণি পাশ। বংশ পরস্পরায় এই আঙুলবিহীন প্রজন্মের রহস্যভেদ কেউ জানে না। তবে সাবিনা ও মাসুদের মা রিজিয়া জানালেন তার শ্বশুরসহ উর্ধ্বতন সব পূর্বপুরুষের হাত-পায়ে কোনো আঙুল ছিল না। সেই থেকে অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারটি।

 

চাকরি বা কেউ কোনো আর্থিক সহায়তা করতে চাইলে ওই পরিবারের মোবাইল নাম্বার ০১৮৫২৮৮৯৯০৩-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

 

সুত্রঃ কালের কণ্ঠ 


Top