রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের কড়া সমালোচনার মুখে ভারত | daily-sun.com

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের কড়া সমালোচনার মুখে ভারত

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:২৩ টাprinter

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের কড়া সমালোচনার মুখে ভারত

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভারতের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ। ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৩৬তম অধিবেশনে এ সমালোচনা করে। খবর: এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।


পরে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রাদ-আল হুসেইন বলেন, যেখানে নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে, ভারত সামগ্রিকভাবে একটি বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীকে সেখানে বিতাড়ন অথবা ফেরত পাঠাতে পারে না।


তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলছে। এই সময়ে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠাতে চাওয়ার অর্থ ভারত এসব মানুষকে আরেক দফা সংঘাতের মধ্যে ফেলে দিতে চাইছে।


ভারতে বর্তমানে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার রোহিঙ্গাকে শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধিত করেছে জাতিসংঘ।


জেইদ রাদ-আল হুসেইন বলেন, ভারত বলছে- তারা শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। সুতরাং আন্তর্জাতিক আইনেই তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারেন। কিন্তু ভারতের অনুধাবন করা উচিত, সামগ্রিকভাবে আমরা মৌলিক মানবাধিক রক্ষায় কাজ করছি।


তিনি আরও বলেন, ভারত শরণার্থীবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য নয়। তবে তারা সামগ্রিকভাবে যেখানে ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কিংবা বিতাড়ন করতে পারে না। তবে জেইদ রাদ-আল হুসেইনের এই সমালোচনার বিষয়ে ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।


বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন নানা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। দেশটি সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব স্বীকার করে না।


বিগত কয়েক দশকে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের নির্যাতন বেড়ে গেছে। সর্বশেষ ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে। এর ১৫ দিনের মাথায় গত শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) একতরফাভাবেই রবিবার থেকে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় আরসা। যদিও আরসা’র অস্ত্রবিরতির ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে সু চি’র সরকার।


আরসা’র ওই হামলার পর রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াং লি শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।


এদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে জাতিসংঘের কর্মীরা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেছেন, গত ১৫ দিনে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে; যাদের অধিকাংশই অসুস্থ অথবা আহত। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে জানান রাখাইনে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে। এর মধ্যে বিগত ১৫ দিনে বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে।


জাতিসংঘ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় পায়ে হেঁটে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আশ্রয়ের সঙ্গে তাদের ভীষণভাবে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। এছাড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে গো-রক্ষার নামে ভারতে চলা তৎপরতা ও সম্প্রতি সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশ খুন হওয়ার বিষয়েও নয়াদিল্লির সমালোচনা করেছে।


চলতি বছরের শুরুর দিকেও জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ভারতের সমালোচনা করেছিল। সাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি, জাতিগত সহিংসতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে তখন ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল।

 


Top