গণজাগরণ মঞ্চের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা | daily-sun.com

গণজাগরণ মঞ্চের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:২১ টাprinter

গণজাগরণ মঞ্চের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বর থেকে মিয়ানমার দূতাবাস অভিমুখে রওনা হলে বাধার মুখে পড়েন গণজাগরণ কর্মীরা। পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তারা সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।


সমাবেশ শেষে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে মিয়ানমার দূতাবাসে যান। 


এদিকে, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।


উল্লেখ্য, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে। এর ১৫ দিনের মাথায় গত শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) একতরফাভাবেই রবিবার থেকে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় আরসা।


আরসা’র ওই হামলার পর রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াং লি শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।


এদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে জাতিসংঘের কর্মীরা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেছেন, গত ১৫ দিনে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে; যাদের অধিকাংশই অসুস্থ অথবা আহত। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে জানান রাখাইনে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে। এর মধ্যে বিগত ১৫ দিনে বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। 

 


Top