আরসা’র অস্ত্রবিরতির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান সু চি’র | daily-sun.com

আরসা’র অস্ত্রবিরতির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান সু চি’র

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:১৩ টাprinter

আরসা’র অস্ত্রবিরতির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান সু চি’র

 

সহিংসতায় বিধ্বস্ত রাখাইনে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের মাঝে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরাকান স্যালভেশন আর্মি বা আরসা’র একতরফা অস্ত্রবিরতির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতা অং সান সু চি’র মুখপাত্র রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) টুইটবার্তায় বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আপস করবে না তার দেশ। ’ খবর: বিবিসির। 


২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করে। এর ১৫ দিনের মাথায় গত শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) একতরফাভাবেই রবিবার থেকে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় আরসা।


আরসা’র ওই হামলার পর রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াং লি শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।


এদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। কক্সবাজারে জাতিসংঘের কর্মীরা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বলেছেন, গত ১৫ দিনে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে; যাদের অধিকাংশই অসুস্থ অথবা আহত। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে জানান রাখাইনে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে। এর মধ্যে বিগত ১৫ দিনে বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। 


এদিকে আরসা’র এই পদক্ষেপ পরিষ্কার নয়। রাখাইন রাজ্যে সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এই সংগঠন উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হয় না। যেখানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। শত শত গ্রাম ধ্বংস করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।


রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের এ সংগঠনের অস্ত্র বিরতির ঘোষণায় সেনাবাহিনী অথবা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির এক মুখপাত্র টুইটারে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করার মতো কোনো নীতি নেই আমাদের।


মিয়ানমার বলছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আরসা’কে প্রতিরোধ করতে ক্লিয়ারেন্স অভিযান পরিচালনা করছে। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন সরকার আরসা’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।


মানবাধিকার পর্যবেক্ষক ও রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, রোহিঙ্গাদের রাখাইন ছাড়া করতে সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী বৌদ্ধরা একযোগে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে। রাখাইনে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে।

- সূত্র: রয়টার্স।

 


Top